প্রতারণার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম এখন অনলাইন, সর্বস্বান্ত লাখো মানুষ

এগিয়ে চলছে পৃথিবী, এগিয়ে চলছে দেশ। ডিজিটাল নামকরণে এগিয়ে যাওয়া প্রত্যেকটি বিষয়ের মতো বেড়েছে ডিজিটাল প্রতারণা। ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া এখন প্রতারণার শ্রেষ্ঠ ফাদ হিসেবে চিহ্নিত। সাইবার সিকিউরিটি ও আইনী ব্যবস্থা আমাদের দেশে একটু নরম হওয়াতে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে প্রতারণা। হাজারো মানুষ লিপ্ত হচ্ছে প্রতারক চক্রে। নতুন ও বোকা মানুষ হেনস্তের শিকার হচ্ছে বেশি। প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে দেশে সহজসরল মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার নজির নতুন নয়। নিকট অতীতেও নানা উপায়ে প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গেছে। কখনো একক ব্যক্তি, কখনো সংঘবদ্ধ, কখনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও করা হয়েছে প্রতারণা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের টোপ ফেলে প্রতারণা সবসময়ই চলমান। লাস্যময়ী নারী-পুরুষদের ছবি ব্যবহার করে, দ্রুত ভাব জমিয়ে প্রেমের টান তৈরি করে, শিকারদের কাছ থেকে ফাঁদে ফেলার মতো অন্তরঙ্গ ছবি হাতিয়ে নেয় চক্র। এরপর চলে ব্ল্যাকমেইল, এসব ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল করে দেওয়া হবে – এই হুঁমকির বিপরীতে টাকা পাঠাতে বলা হয়। অনেক সময় দেখা যায় চাঁদা দেওয়ার পরও সেসব ছবি ও ভিডিও নীল ছবির সাইটে ফাঁস করেই দেয় প্রতারকরা। তাই কখনোই অন্তরঙ্গ ছবি অনলাইনে কারো কাছে পাঠানো উচিত নয়।
প্রতিদিন এইরকম প্রতারণার হাজারো খবর পাওয়া যায়। প্রতারণার শিকার হচ্ছে প্রবাসী, সরকারি চাকুরীজীবি, শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সকল পেশার মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিনিয়ত এইরকম হাজারো প্রতারণার বিজ্ঞাপন। পেশা ও সময়ের সাথে বিজ্ঞাপনটি মিলে যাওয়ায় প্রতারণার ফাদে পা দিচ্ছেন একেকজন। মুহূর্তেই হারাচ্ছে অর্থ। কেউ কেউ আবার দীর্ঘমেয়াদী প্রতারণার শিকার হচ্ছে। প্রতারকরা নির্বিঘ্নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি লগো ও নাম ব্যবহার করে করছে প্রতারণা। অনেকে সম্মানের কথা চিন্তা করে, অনেকে লজ্জায়, অনেকে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ভয় পায়। ফলে প্রতারকদের দৌড়াত্ব আরো বেড়ে যায়।
মালয়েশিয়া প্রবাসী রবিউল ইসলাম ২ সন্তানের জনক। মাসিক আয়ও ভালো। অনলাইনে প্রেম হয় ভারতীয় এক নারীর সাথে। কিছু সময় ভিডিও কলে অন্তরঙ্গ কথা বলার সময় দুজনেই নগ্ন অবস্থায় সময় কাটান। সেই ভিডিও কলের স্ক্রিনশট রেখে ব্লক করে দেওয়া হয় রবিউল ইসলামকে। তারপর অন্য আরেক আইডি থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। টাকা না দিলে এসব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা হবে বলে হুমকী প্রদান করে প্রতারক চক্র। রবিউল ইসলাম নিজের ও পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে প্রতারকদের দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করে এখন প্রায় সর্বস্বান্ত।
দেশে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে অধিক ফলোআপ, অনুসন্ধান, নিয়মিত তদারকি সাইবার ক্রাইম কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে জন সচেতনতা এই বিষয়ে অধিক ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *