জেলে বন্দি ছেলের মুখ দেখা হলো না মায়ের, অঝোরে কাদলেন জসিম

মোঃনিজাম

বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমের একমাত্র সম্বল ছেলে মোঃ লিটন জেলেবন্দি, তার স্বামী মোঃ সফি মারা গেছেন প্রায় ৩ বছর আগে,প্রতিবেশীদের ভাষ্য, মায়ের নয়নের মণি ছিল লিটন। মাকে রেখে লিটন কোথাও গিয়ে রাত কাটাতেন না। অথচ পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ মৃত্যুতে তার স্ত্রীর করা মামলায় সেই ছেলে মায়ের চোখের আড়াল ৯৮ দিন। এ কারণে সারাক্ষণ বৃদ্ধা মায়ের চোখের কোণে জল জমে থাকত,হাউমাউ করে কান্না করতেন দুই নাতিকে জড়িয়ে ধরে,ছেলেকে শেষবারের মতো একবার দেখার আকুতি ছিল তাঁর,তবে তা অপূর্ণই থাকল। ছেলেকে দেখতে না পারার হতাশায় স্ট্রোক করে রবিবার সকালে মারা গেছেন তাঁর মা। লিটনের বাড়ি চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকায়।
লিটনের ছোট ভাই হান্নান বলেন, ইদানিং মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না,ছেলে জেলে থাকায় সব সময় চিন্তা করতেন। ছেলের কথা ভেবে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্ট্রোকে মায়ের মৃত্যু হয়।
লিটনের ছোট বোন শাহানাজ আক্তার সেতু জানান, এ মামলায় আমার ভাইকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে এক নজর ছেলের মুখটা দেখার আকুতি ছিল তাঁর মায়ের,কিন্তু তাঁর সে আশা পূরণ হলো না।
উক্ত মামলার সাত নম্বর আসামী জানাযা শেষে কান্না জড়িত কন্ঠে মোহাম্মদ জসিম বলেন, লিটনের মায়ের মতো আমার পরিবারও আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছে,আমার অবুঝ শিশু সন্তানরা গভীর রাতে অঝোরে কাঁদছেন,জানিনা আমি ও আমার পরিবারের ভাগ্যে কি আছে।
তিনি আরও বলেন,শহীদুল্লাহর সাথে আমার কখনোই পরিচয় ছিল না,অথচ মিথ্যা মামলায় আসামী হয়েছি। আমি কেন জায়গার পাওয়ার নিলাম, কেন গরিব মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছি- এটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর রাতে নগরের এক কিলোমিটার এলাকায় বাসার কাছে রাস্তা থেকে একটি সিআর মামলায় দুদকের সাবেক উপ-পরিচালক সৈয়দ মো. শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। থানায় পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হলে পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছার আদালতে মৃত শহীদুল্লাহর স্ত্রী ফৌজিয়া আনোয়ার ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করলে থানায় মামলা রেকর্ড করার আদেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *