প্রতিবন্ধী হলেও মনের শক্তি নিয়েই বেঁচে আছেন জামালপুরের মোহাম্মদ শেখ –

তরিকুল ইসলাম, জামালপুর থেকে ফিরে-

ছেলেটির নাম মোহাম্মদ শেখ। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবের গ্রামের তার বাড়ি। পিতার নাম আব্দুল জলিল শেখ। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। বয়স ১৭ পেরিয়ে আঠারোতে পড়েছে। উচ্চতা দেড় ফুট। বসতে, হাটতে ও দাঁড়াতে কোনটাই পারেন না মোহাম্মদ শেখ। অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয় তাকে। সবসময় শুয়েই থাকেন। তবে তার সঙ্গে কথা বললে মনেই হবে না তিনি প্রতিবন্ধী। মনের দিক থেকে প্রবল শক্তিশালী। প্রশ্ন করলে দ্রুত উত্তর দেন মোহাম্মদ শেখ, উত্তর শুনে মনে হবে সে উচ্চ শিক্ষিত! অথচ কোন পড়াশুনাই করেননি তিনি। যদিও প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু ক্লাস করা হয়নি তার। দু’একদিন স্কুলে গেলেও সহপাঠীদের অবহেলায় বন্ধ করতে হয়েছে স্কুল যাওয়া। গত ১৬ রমজান এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় মোহাম্মদ শেখের।

তার মা আমেনা বেগম বলেন, ছেলেটা আমার প্রতিবন্ধী হলেও অনেক বুদ্ধিমান। চার ভাই বোনের মধ্যে মোহাম্মদ শেখ সবার ছোট। হাটতে পারে না ঠিকই, তাকে দেখলে, তার সাথে কথা বললে আমার মনটা ভরে যায়। সে কখনো আমার মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলেনা। তবে মানুষ যখন ছেলেটাকে দেখে হাসাহাসি করে তখন খুবই খারাপ লাগে। তার বাবাও তাকে খুবই ভালো বাসে। সে যখন যেটা চায় সাথে সাথে আমরা সেটা এনে দেওয়ার চেষ্টা করি। রমজান মাসে সে সবগুলো রোজাই রাখে। সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে তার। একটা কথা একবার শুনলেই মনে থাকে।

মোহাম্মদ শেখ বলেন, তিনি প্রতিদিন রাত ১১ টা পর্যন্ত টেলিভিশনে বিভিন্ন খবরাখবর দেখেন। বর্তমানে কোথায় কি হচ্ছে সবই জানার চেষ্টা করেন। একটি ফেইসবুক আইডিও আছে তার। স্হানীয় এমপি মির্জা আজমের সাথেও পরিচয় আছে বলে জানান মোহাম্মদ শেখ। তার বাবার নামের সাথে তার নাম বললেই নাকি তাকে চিনবে মির্জা আজম এমপি। চেনার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদ শেখ বলেন, চিনবো না কেন এমপি সাহেবের বাড়ি আর আমার বাড়ি তো একই গ্রামে।

ফেইসবুক আইডি সম্পর্কে জানতে চাইলে লজ্জা পেয়ে বললেন, না আইডিটা আপনাকে দিব না। ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে চাইলে প্রথমে রাজি না হলেও পরবর্তীতে রাজি করা গেছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকে ছবি তুলে, ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়, যখন আমি দেখি তখন আমাকে খুব খারাপ লাগে। বলতেই চোখে পানি এসে যায় মোহাম্মদ শেখের।

প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
তার মা বলেন, শুনেছি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার অনেক কিছু করছে কিন্তু আমার ছেলের জন্য একটা হুইলচেয়ার পর্যন্ত পেলাম না। যে চেয়ারটা দেখছেন এটা অন্য একজন দিয়েছে তাকে।
তার সাথে একটা সেলফি তুলতে চাইলে মুচকি হাসি হেসে বললেন, তুলেন। কয়েকটি ছবি সেই সাথে কিছু সময় ভিডিও করা হলো। ছোট্ট একটি ইন্টারভিউও নেওয়া হয়েছে তার…. আসার সময় উপহার স্বরূপ কিছু টাকা তার হাতে দিতে চাইলে প্রথমে রাজি হননি। পরে অবশ্য তার মায়ের কথায় নিতে হয়েছে উপহার….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *