সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। তাহিরপুরে আটক নাসির বিড়ি’র হদিস মিলছে না, প্রশ্নের মুখে মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ। আ:লীগের মিছিলের মামলায়,সাংবাদিক, যুবদল কর্মী, শিক্ষক ও ওমরাহ পালনরত ব্যক্তির নাম থাকায় উঠছে নানা প্রশ্ন। বিএনপি নেতার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ করায় মানবাধিকার নেতাকে হত্যা ও গুমের হুমকির অভিযোগ বগুড়ায় মৎস্য হ্যাচারি মালিক কল্যাণ সমিতির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত। লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ উদযাপনের ঘোষণা: দল-মতের ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্যের আহ্বান বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর বন্ধের দাবিতে রিয়াদ প্রবাসী বাংলাদেশী সচেতন মহলের সংবাদ সম্মেলনে; বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন, তবে তার সঙ্গে চাই ন্যায়সংগত কর্মমূল্যায়ন—মোঃ আসাদ উল্লাহ, বিএসসি জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভায় সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, প্রশিক্ষণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি 

জনাব তারেক জিয়া ও জামায়াতের আমীরের নির্বাচনোত্তর সাক্ষাৎকার সৌজন্য গণতান্ত্রিক চর্চার দ্বার উন্মোচনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে।

তরিকুল ইসলাম, সহকারী বার্তা সম্পাদক / ১৪২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 

মোঃ সেলিম উদ্দীন, ঢাকা 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় চিরন্তন সত্য; কিন্তু সেই ফলাফলকে পরিপক্বতার সঙ্গে গ্রহণ করাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকৃত মানদণ্ড।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান–এর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। নির্বাচনের পর সরকার ও বিরোধী দলের এমন উন্মুক্ত ও আন্তরিক যোগাযোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যায়নি। এটি কেবল শিষ্টাচার নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

গণতন্ত্র তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন সরকার উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে এগিয়ে যায় এবং বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। যদি জামায়াতে ইসলামী সংসদে একটি দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও জনমুখী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে সংসদ কার্যক্রম হবে আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ। একই সঙ্গে সরকারও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো হবে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই।

বাংলাদেশ আজ এক পরিবর্তনমুখী সময় অতিক্রম করছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র মানে কেবল নির্বাচন নয়; বরং ন্যায়, অংশগ্রহণ ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা। একটি কার্যকর সংসদ, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে কিন্তু লক্ষ্য হবে জাতির অগ্রগতি—সেই পরিবেশই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

রাজনীতির ভাষা যদি হয় সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণমানুষের কল্যাণ, তবে নতুন সংসদ সত্যিই নজিরবিহীন হয়ে উঠতে পারে। সরকার ও বিরোধী দলের এই সৌজন্যমূলক সূচনা যদি ধারাবাহিকতা পায়, তবে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক ইতিবাচক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য দ্বন্দ্বে নয়, ভারসাম্যে। আর সেই ভারসাম্য রক্ষায় দায়িত্বশীল সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দল—উভয়ই সমান অপরিহার্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর