বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দক্ষিণ নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন বিপ্লব হোসেন বাপ্পি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কোন্নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ারারস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মধ্যাহ্নভোজ ও ভর্তা পার্টি’ স্বপ্ন থেকে সাফল্যে:ভালোবাসা, ত্যাগ আর অধ্যবসায়ে ৪৭ তম বিসিএস একই ক্যাডারে স্বামী- স্ত্রী অনন্য অর্জন কৃষকের ছেলের স্বপ্নপূরণ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ৪৭তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত শ্রীবরদীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ মাদারীপুরের শিবচরের কৃতি সন্তান ইমরান ৪৭ তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান সৌরভের স্বপ্নজয়-৪৬ তম বিসিএস কৃষি ক্যাডারে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত সিলেটের প্রিয়ন্তী সুনামগঞ্জ শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ট্যালেন্ট ফুল বৃত্তি অর্জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সকে জেলা প্রশাসন, শেরপুরের বিদায় সংবর্ধনা

৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ঘরছাড়া; ন্যায়বিচার ও স্বামীর ঘরে আশ্রয়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন 

প্রতিবেদকের নাম / ৭২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

 

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রবাসে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্নের পুঁজি গড়েছিলেন রোকসানা বেগম। সৌদি আরবের মরুভূমির তপ্ত বালিতে ঘাম ঝরিয়ে অর্জিত সেই সম্পদই দেশে ফিরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে লুণ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ তার। বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রোকসানা। তিনি জানান, দীর্ঘ তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চারটি গরু ও দুটি ভেড়া ক্রয় করেন। ২০২৪ সালে দেশে ফিরে দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হরিপদনগর গ্রামের সাইজুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সংসারের উন্নতির কথা চিন্তা করে নিজের গবাদিপশুগুলো স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রোকসানার সম্পদের প্রতি লোভ জন্ম নেয় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। গরু বিক্রি করে বাথরুম নির্মাণের প্রস্তাবে তিনি রাজি না হওয়ায় শুরু হয় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। গত ২৬ মার্চ তার অমতে জোরপূর্বক চারটি গরু, দুটি ভেড়া ও তিন কাটা ধান বিক্রি করে দেওয়া হয়। এছাড়া তার কানের স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রাখা এবং হাওলাতের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোকসানা আরও জানান, গত ১২ ডিসেম্বর তিনি তার পাওনা অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কোনো অর্থ বা অলঙ্কার ছাড়াই তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তার বাবা আলা উদ্দিন বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত। কোনো ভাই না থাকায় এবং বাবার শারীরিক ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাবার বাড়িতেও আশ্রয় হয়নি তার। বর্তমানে তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মিরেরচর গ্রামে বোনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

নিরুপায় হয়ে রোকসানা বেগম দোয়ারাবাজার আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করলেও এখনও তিনি তার প্রাপ্য সম্পদ কিংবা নিরাপত্তা ফিরে পাননি বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোকসানা বলেন, “প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেছি, তা এভাবে আপনজনদের হাতে হারাবো—কখনও ভাবিনি। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। আমি স্বামীর ঘরে ফিরতে চাই এবং আমার অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে চাই।”

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। সচেতন মহলও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর