নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৬নং মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সোহেল রানা রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। তাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী অনিয়ম, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া, টিসিবির পণ্য ও সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে সোহেল রানা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী ও রাজশাহী নগরীতে জমি, পুকুর, গরুর খামার, ইটভাটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদের মালিকানা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। তারা তার সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, জমির দলিল এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, গোদাগাড়ী সীমান্তকে ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চলে মাদক সরবরাহকারী একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সোহেল রানার সম্পৃক্তত রয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদক, নাশকতা ও অন্যান্য অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৭ সালে হেরোইন-সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এছাড়া ২০১৭ সালে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ২৩ জুন ২০২৬ রাতে নিজ বাসভবনে সীমিত পরিসরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা নিয়েও এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সোহেল রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সোহেল রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩