
মোঃ সুজন আহাম্মেদ বিভাগীয় চিফ রাজশাহীঃ
দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়েছেন নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. হজরত আলী। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণের পর চেয়ারম্যান মো. হজরত আলী বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। গোগ্রামবাসী আমাকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান থাকবে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. হজরত আলী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান।
হজরত আলীর অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রে তিনি ১ হাজার ২৭০ ভোট পেলেও ফলাফল শিটে ৯৭০ ভোট দেখানো হয়। অন্যদিকে মজিবর রহমানের প্রাপ্ত ৬৩৫ ভোটের স্থলে ৯৩৫ ভোট উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ৮৭ ভোটের ব্যবধানে মজিবর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়।
হজরত আলীর দাবি, ১০টি ভোটকেন্দ্রের সম্মিলিত হিসাবে তিনি পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৮০১ ভোট। অপরদিকে মজিবর রহমান পেয়েছিলেন ৯ হাজার ২৮৭ ভোট। অর্থাৎ তার দাবি অনুযায়ী, তিনি ৫১৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রথমে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে মামলাটি রাজশাহী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে (সদর সিনিয়র জজ আদালত) স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত ভোট পুনর্গণনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ২০২১ সালের প্রকাশিত গেজেট বাতিল করেন। একই সঙ্গে মো. হজরত আলীকে বৈধ চেয়ারম্যান ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে পদ ফিরে পাওয়ায় শপথ গ্রহণের পর তার সমর্থক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ায় গোগ্রাম ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে। এখন এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে নতুন করে গতি আসবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক
বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩