আন্দোলন স্থগিতেও মেলেনি বিচার, উদ্ধারকারীদের হুমকির অভিযোগ
আমির হোসেন, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন যুবসমাজ। তবে ঘটনার পর বিচারের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করানো হলেও দীর্ঘ দিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীকে ডেকে নিয়ে নিজ বাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় ওই ছাত্রী কৌশলে মোবাইল ফোনে সহপাঠীদের বিষয়টি জানালে সহপাঠী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে তাৎক্ষণিক আন্দোলনে নামেন। পরবর্তীতে দায়িত্বশীল মহল থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা সহপাঠী ও উদ্ধারকারীদের ওপর নেমে এসেছে নতুন আতঙ্ক। উদ্ধারকাজে সম্পৃক্তদের বিভিন্ন অজানা নম্বর থেকে কল দিয়ে ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর সহপাঠী আমিনুল ইসলাম বলেন, "ছাত্রীকে উদ্ধার করার পর থেকেই একটি চক্র আমাকে ফোনে এবং সরাসরি নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো এবং হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার সহপাঠীরা তীব্র নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।"
ঘটনাসংক্রান্ত বিষয়ে বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আক্তার বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এটি যেহেতু কলেজের বাইরে ওই শিক্ষকের নিজ বাসায় ঘটেছে, তাই আইনগতভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের সরাসরি কিছু করার থাকে না। তবে ভুক্তভোগী ছাত্রী যদি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চায়, আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা দেব।"
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রী, ঘটনার সাক্ষী এবং উদ্ধারকারী শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়, যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা চাপে ন্যায়বিচার ব্যাহত না হয়।
(উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনিক বক্তব্য সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।)
আপনার সংবাদের প্রাসঙ্গিকতা ও মান বজায় রেখে শিরোনাম এবং সারাংশ সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্য কোনো তথ্য বা সংশোধন যুক্ত করতে চাইলে জানাতে পারেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক
বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩