দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডার: মেধাতালিকায় ২৮তম খালিদ হাসান (বাপ্পী)
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
স্বপ্নপূরণের পথে ব্যর্থতা কখনো শেষ কথা নয়। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাই হতে পারে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা। সেই সত্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ মো. খালিদ হাসান (বাপ্পী)। শারীরিক অসুস্থতা, দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা এবং নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই বিসিএসে তিনি মেধাতালিকায় ২৮তম স্থান অর্জন করেছেন।
১৯৯৬ সালের ৮ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন খালিদ হাসান (বাপ্পী)। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু আদর্শ শিশু একাডেমী, কচুয়ায়। এরপর সি. এস. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং খুলনা পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কাজ করার স্বপ্ন। ২০১৯ সালে কৃষিতে বিএসসি এবং ২০২৩ সালে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিষয়ে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনের শুরু হয় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পশ্চিম মঘিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ২০২১ সালভিত্তিক ব্যাংক নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া ২০২৩ সালভিত্তিক সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন এসেছে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। বিসিএসে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় ভাইভা। শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও দুইবার ভাইভায় ব্যর্থ হয়েও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতির শক্তিতে পরিণত করেছেন। সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলেই তৃতীয়বারের চেষ্টায় তিনি কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলেরও অপেক্ষায় রয়েছেন, যা তাঁর নিরন্তর প্রচেষ্টারই আরেকটি অধ্যায়।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে খালিদ হাসান (বাপ্পী) বলেন, জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্ত তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি; বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে। তিনি মনে করেন, ধৈর্য, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না।
তিনি আরও জানান, এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পেরে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। তাঁদের দোয়া, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাই তাঁকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মো. খালিদ হাসান (বাপ্পী)-এর এই সাফল্য প্রমাণ করে, জীবনের পথে যত বাধাই আসুক না কেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হলে সফলতা একদিন ধরা দিতেই বাধ্য। তাঁর এই অর্জন কৃষি বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, বিসিএস প্রত্যাশী এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩