
বিসিএস সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন সরকারি বাংলা কলেজের মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
মিজানুর রহমান,বিশেষ প্রতিবেদন:অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য অর্জনের অটুট প্রত্যয়—এই গুণগুলোর অসাধারণ সমন্বয়ে ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বিসিএস (সমবায়) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সরকারি বাংলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ঘোষিত এই ফলাফলে তার এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি তার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জন্মভূমি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ব্রহ্ম কপালিয়া গ্রাম এবং অসংখ্য স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।
মোস্তাফিজুর রহমানের জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার ব্রহ্ম কপালিয়া গ্রামে। তিনি সরকারি বাংলা কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও সংগ্রামী। পরিবারের আর্থিক ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কখনো স্বপ্ন থেকে সরে যাননি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং এবং ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়েছেন। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি গ্রহণ করেছেন নতুন উদ্যমে।
তিনি তার এই সফলতার পেছনে মা-বাবা, মামা আব্দুল আলীম যিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, ভাই-বোন, এছাড়াও সহকর্মী ও ভাই মাকসুদুর রহমান, বন্ধু বান্ধব, টিউশন পরিবার, জনতা ব্যাংক সলংগা শাখায় কর্মরত সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার বাবা গ্রামের প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পাস ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। ছোট ভাই বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে কর্মরত। পরিবারের শিক্ষা, সততা ও পরিশ্রমের মূল্যবোধই তাকে সফলতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
কর্মজীবনেও তিনি ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)-এ কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি জনতা ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি মোট ৮টি সরকারি চাকরিতে মনোনীত হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এছাড়া ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
৪৬তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিসিএস বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সম্মানজনক নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর অন্যতম। হাজারো মেধাবী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই সাফল্য অর্জন তার অধ্যবসায়, নিয়মিত অধ্যয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা এবং অদম্য মানসিক শক্তিরই প্রতিফলন।
সমবায় ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দেশের সমবায় খাতের উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সততা, মানবিকতা ও জনসেবার মানসিকতা।
তার এই অর্জনে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভাসিয়ে দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। সবাই আশা করছেন, তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের সাফল্যের গল্প তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন—জীবনে প্রতিকূলতা থাকতেই পারে, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না। তার এই অর্জন আগামী দিনের বিসিএস প্রত্যাশীসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও প্রেরণা জোগাবে।
স্বপ্ন থেকে সফলতার এই দীর্ঘ যাত্রায় মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আজ যুক্ত হলো দেশের মেধাবী ও সংগ্রামী সরকারি কর্মকর্তাদের কাতারে। তার আগামী কর্মজীবন হোক আরও সাফল্যমণ্ডিত—এমন প্রত্যাশাই সবার।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩