সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার অপুর নির্দেশনায় নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে দুই ঘণ্টার প্রতীকী অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, পোস্টারিং ও হ্যান্ডবিল বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও মহাসড়কের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়সহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন। কয়েকটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে নয় দফা দাবি-সংবলিত পোস্টার লাগানো এবং বিভিন্ন এলাকায় হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচি সফল করতে মোটর শ্রমিকদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন আয়োজকেরা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কে থাকা যানবাহনগুলো সাময়িকভাবে থামিয়ে রেখে প্রতীকী অবরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কোনো শ্রমিক কিংবা যানবাহনের ক্ষতি করা হবে না বলেও আয়োজকেরা জানান।
আয়োজকদের ঘোষিত ৯ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে এসবের দাম কমানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নিয়মিত চালু রাখা, বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর দাবিও তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া ‘রাজবন্দী’দের মুক্তি এবং সকল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের দাবির মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রম ও রায় বাতিলের দাবিও তারা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যেসব ‘হয়রানিমূলক’ মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও কর্মসূচি থেকে জানানো হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে কবির বিন আনোয়ার অপুর সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মো. জয়নুল আবেদীন রোজ, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী সার্বিক সহযোগিতা করেন।
আয়োজকেরা দাবি করেন, সিরাজগঞ্জ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে পোস্টারিং, হ্যান্ডবিল বিতরণ ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তবে এ কর্মসূচির কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় কিংবা সিরাজগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে যান চলাচলে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক
বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩