ভেড়ামারার সাইন মাহমুদের সাফল্য, রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে মেধাতালিকায় প্রথম
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের তরুণ আ ন ম সাইন মাহমুদ (শোভন) মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিজ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৫১৬ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ১৩তম।
বর্তমানে সাইন মাহমুদ চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (BEPZA)-তে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯৯ সালের ৫ মে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আ ন ম সাইন মাহমুদ। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ ও মনোযোগ। যমুনা সারকারখানা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ধাপ শেষে তিনি ভেড়ামারা পাইলট মডেল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।
২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন সাইন মাহমুদ। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। সেখানে কনস্ট্রাকশন টেকনোলজিতে পড়াশোনা করে ২০১৯ সালে ৪-এর মধ্যে ৩.৬১ সিজিপিএ অর্জনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি। যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রথমে BEPZA-তে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নিজ ক্যাটাগরিতে প্রথম এবং ৫১৬ জনের মধ্যে ১৩তম স্থান অর্জন করেন।
বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ রেলওয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রকৌশল দক্ষতা কাজে লাগিয়ে রেলওয়ের উন্নয়ন, নির্মাণ ও অবকাঠামোগত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাইন মাহমুদ।
নিজের এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে বড় ভাই আ ন ম মামুন-অর-রশীদ-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান সাইন মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য, বড় ভাই তাঁর পড়াশোনার খরচ বহন করে সবসময় পাশে থেকেছেন এবং স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
চণ্ডিপুর গ্রামের এই তরুণের সাফল্যে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তাঁর এই অর্জন শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
সাইন মাহমুদের সাফল্যের গল্পে ফুটে উঠেছে স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের শক্তি। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে—লক্ষ্য স্থির রেখে নিরলসভাবে পরিশ্রম করলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩