মোঃ তাজিদুল ইসলাম:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন এলাকায় ইজারা ব্যতীত অবৈধভাবে মরা চেলা নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। নদের তলদেশ ও তীর অবিরামভাবে কেটে ফেলার কারণে এখন পুরো এলাকার জীবন-জীবিকা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগব্যবস্থা চরম হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটছে ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর রহমতপুর গ্রামের চৈলতা ঢালা এলাকায়। এখানকার প্রায় ৪০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানালেও বন্ধ হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এলাকাবাসী জানান, নদের তীর কেটে বালু তোলার কারণে সরকারি বৃহৎ বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৃষ্টি বা বন্যার সময় পুরো এলাকা প্লাবিত হবে—ক্ষতিগ্রস্ত হবে শত শত বিঘা বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বাসিন্দাদের বসতবাড়ি এবং এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মূল সড়কটিও।
শুধু তাই নয়, এই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে উত্তর আহমদপুর জামে মসজিদটিও। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫-২০২৬ সালে আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল হকের সার্বিক অর্থায়ন ও প্রচেষ্টায় নতুন করে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন নদের তীর ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিও যেকোনো মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ছাতক-দোয়ারা আসনের ২০২৫-২০২৬ সালের সাংসদ পদপ্রার্থী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় নেতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল হক। তিনি আরও ইউরোপ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা, মুসলিম ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি, সুনামগঞ্জ জেলা এডুকেশন ট্রাস্টের সেক্রেটারি এবং মিল্টন কিংস বাংলাদেশী এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নুরুল হক বলেন, "কোনো আইনগত ইজারা বা প্রশাসনিক অনুমতি ব্যতীত এভাবে নদী কেটে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি শুধু আজকের ক্ষতি করছে না—ভবিষ্যতে বড় বন্যা বা ভূমিক্ষয়ের মতো বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমাদের কষ্ট করে নির্মাণ করা মসজিদ, লক্ষ মানুষের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।"
তিনি আরও বলেন, "আমি ছাতক-দোয়ারা আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, ছাতক উপজেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পরিবেশ ও বন অধিদপ্তর এবং নদী রক্ষা কমিশনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করুন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেরিবাঁধ ও নদীতীর সংস্কার করে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।"
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না পেলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩