প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ১০:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:৩৩ এ.এম
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক সম্রাট চিট রাসেল এখনো অধরা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও পলাতক, মানিলন্ডারিং তদন্তের দাবি জোরালো
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহীঃ
রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের আলোচিত মাদক কারবারি মনোয়ারুল হাসান রাসেল ওরফে ‘চিট রাসেল’-এর বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় কার্যকর না হওয়া এবং দীর্ঘদিনেও তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা মামলা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১ (সূত্র: কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯)-এ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর টেবিল ১০(গ), ৩৮ ও ৪১ ধারায় দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন। ফলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং তার গ্রেপ্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কে এই চিট রাসেলঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারুল হাসান রাসেল স্থানীয়ভাবে ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে তার নাম উত্তরাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে উঠে আসে।
২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় মহানগর পুলিশ (আরএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে তাদের ভাড়া বাসা থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সে সময় পুলিশ জানায়, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এরও আগে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা এলাকায় র্যাব-১২ প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। সে সময় উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা।
র্যাবের তথ্যমতে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা সরবরাহের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন রাসেল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে তিনি মাদক সিন্ডিকেটে যুক্ত হন। প্রথমে হেরোইন বহনের কাজ করলেও পরবর্তীতে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রকে পরিণত হন।
শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগঃ
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই রাসেল শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন। রাজশাহী শহরে বহুতল ভবন, দামি ফ্ল্যাট, জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মানিলন্ডারিং তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি রাসেলের নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সম্পদে রূপান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩