মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং কৃষকদের যত্নশীল পরিচর্যায় লিচু গাছগুলোতে থরে থরে ঝুলছে রসালো, মিষ্টি ফল। কৃষকরা আশা করছেন, এবার লিচু বিক্রি করে ভালো লাভ করবেন।
উপজেলার ফাকরাবাদ, হলদিগ্রাম, আয়নাপুর, বনগাঁও, সন্ধ্যাকুরা গান্ধিগাও সহ বিভিন্ন পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় লিচুর বাগান এখন সবুজ-লালের সমারোহ। চায়না-৩, বোম্বাই, বেদানাসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের লিচু গাছে ফলন এতটাই ভালো হয়েছে যে, শাখাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। কৃষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
স্থানীয় কৃষক শ্রাবণ মিয়া জানান, “আমরা আগ্রহ করে ২০ থেকে ১০০টি করে লিচুর চারা লাগিয়েছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর ফল এসেছে।
স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক লুৎফর রহমান বলেন,এবার ৩০ শতাংশ জমিতে লিচুর বাগান করেছি আশা করি বাজারে ভালো দাম পেলে সংসারের অনেক স্বপ্ন পূরণ হবে।” আরেক চাষি আরিফ হোসেন বলেন, “লিচু চাষ করে এখন শুধু নিজের উপজেলার চাহিদা মেটাচ্ছি না, অন্য জেলাতেও সরবরাহ করছি। এটি আমাদের জন্য বড় সুযোগ।”
লিচু বিক্রেতা আতর মিয়া জানান, স্থানীয় বাসা-বাড়ি ও বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। রসালো ও মিষ্টি লিচুর চাহিদা ভালো, তাই ব্যবসায়ও লাভ হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান নুর প্রতিনিধিকে বলেন, এবার ঝিনাইগাতীতে ২২ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। “ঝিনাইগাতীর মাটি ও জলবায়ু লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আমরা সহায়তা করছি।
এবারের বাম্পার ফলন কৃষকদের আয় বাড়াবে এবং লিচু চাষকে আরও বাণিজ্যিকভাবে প্রসারিত করবে।”
বর্তমানে লিচু তোলার কাজ চলছে। কৃষকরা আশাবাদী, সঠিক দাম পেলে এই মৌসুম তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঝিনাইগাতীর লিচু এখন শুধু স্থানীয় বাজার নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে—রসে টসটসে, মিষ্টিতে ভরপুর এই ফলের মাধ্যমে।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক
বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩