নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজারের কাঞ্চনপাড়া মোড়ের পূর্ব দিকে সরকারি খাস জমি দখল, পজিশন বিক্রি ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জয়ন্ত রায় (পিতা-ব্রোথনাথ রায়) গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২২ ডিসেম্বর গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো: আলমগীর হোসেনের নির্দেশে ইউপি সদস্য লালবাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ২২ ডিসেম্বর বিকেলে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এরপর ২৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করে পাকাঘর নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জয়ন্ত রায় বিভিন্ন কৌশলে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান। ৩০ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশনায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জয়ন্ত রায়ের ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে পাকাঘর নির্মাণের স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল বা নির্মাণ কার্যক্রম চালালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কবার্তা প্রদান করে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, জয়ন্ত রায় প্রায় চার বছর আগে একই এলাকায় আনুমানিক চার শতক সরকারি খাস জমি দখল করে তিনটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেন। উল্লেখযোগ্য তার প্রায় ৩০ বিঘা জমি থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারি জমি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন-২০০১, সরকারি সম্পত্তি (অবৈধ দখল উচ্ছেদ) আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া একই এলাকার হাজীগঞ্জ বাজারের কাঞ্চনপাড়া মোড়ের পূর্ব পাশে মো: আফজাল হোসেন প্রায় ২০০ মিটার সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকান মার্কেট নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে ওই মার্কেটে ৮টি দোকানঘর রয়েছে। এছাড়াও তিনি সরকারি খাস জমি ৫ জনের কাছে বিক্রি করেছেন, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হস্তান্তরের শামিল।
আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে জানা যায়, একই এলাকায় মো: আফজাল হোসেন একটি মসজিদ স্থানান্তর করে সরকারি খাস জমি বিক্রি করেছেন। ধর্মীয় স্থাপনার জায়গা বিক্রি করায় স্থানীয়রা চরম আপত্তিকর ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের প্রশাসক মো: আলমগীর হোসেন বলেন, আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি হাজীগঞ্জ বাজারের কাঞ্চনপাড়া মোড়ের পূর্ব পাশে জয়ন্ত রায় ও আফজাল হোসেনের নির্মিত দোকানগুলো সরকারি খাস জমিতে আছে। বিষয়টি আমি নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করেছি।
নীলফামারী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা: মলি আক্তার বলেন, সরকারি খাস জমি কেউ দখল বা বিক্রি করতে পারে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, সরকারি খাস জমি দখল বা পজিশন বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 0044 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩