মো: সেলিম উদ্দীন
আমি কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক নই। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা নির্বাচনী কৌশলের জটিল হিসাব-নিকাশ আমার আলোচনার বিষয় নয়। তবে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে, চায়ের টেবিল থেকে হাট-বাজার, ইত্যাদি জনপদের নানামুখী আলাপ থেকেই যে বাস্তব চিত্রটি ভেসে ওঠে, তার আলোকে একটি ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরা নাগরিক হিসেবে অযৌক্তিক নয়।
আসন্ন বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় সত্য হলো, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনী মাঠ স্বাভাবিক অর্থে ভারসাম্যহীন। দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের শাসক রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, এতে সন্দেহ নেই। তবে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে, তাহলে তা বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার স্বর্গ রাজ্যে হামগুড়ি হাওয়ার মত মনে হয় আমার কাছে ।
বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর এমন কোনো ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য ভূমিকা নেই, যা সাধারণ মানুষকে বিএনপির বাইরে গিয়ে তাদের ওপর আস্থা রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সীমিত ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসযোগ্য অভিজ্ঞতার অভাব,সব মিলিয়ে তারা এখনো গণমানুষের কাছে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।
রাজনীতি শূন্যতায় ভরা কোনো ঘর নয় যে, যে-কেউ এসে দখল নেবে। রাজনীতি গড়ে ওঠে ইতিহাস, ত্যাগ, আস্থা ও মানুষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপর। একটি শক্তির অনুপস্থিতি মানেই আরেকটি শক্তির স্বয়ংক্রিয় উত্থান। এই সরল অঙ্ক রাজনীতিতে চলে না। তাই অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তি বা অলীক আশায় বিভোর হওয়ার আগে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ানো জরুরি। কথায় আছে, বোকার সুখ মনে মনে। রাজনীতিতে এর পরিণতি সাধারণত সুখকর হয় না।
বাংলাদেশের মানুষ আবেগে নয়, অভিজ্ঞতায় ভোট দেয়। এটাই এ দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সত্য। আর যারা এই বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য নির্বাচনী ফলাফল শেষ পর্যন্ত হবে কঠিন এক বাস্তব পাঠ।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩