
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের প্রায় ১২ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা থাকলেও, ভোটের আগের রাতেই বিভিন্ন অনিয়ম, সহিংসতা ও অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ভয়মুক্ত ভোট। কিন্তু ভোটের আগের রাতেই যেসব ঘটনা সামনে এসেছে, তাতে সেই প্রত্যাশা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগে দেশবাসী হতবাক। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার নানা চিত্র সামনে আসছে।রাজধানীর সূত্রাপুরে ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী সূত্রাপুর থানা শাখার নায়েবে আমির মো. হাবিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এ ঘটনা ভোটের আগেই নগদ অর্থের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার গুরুতর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ব্যালটে সিল মারছেন—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির এক প্রার্থী। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও ঘটনাটি নির্বাচন ব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে একটি ভোটকেন্দ্রে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টদের আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন। এটি নির্বাচনোত্তর ফলাফল জালিয়াতির আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।
নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক। গোপালগঞ্জে সাতটি ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টাকার উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।
ভোটের আগের রাতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থাকে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
নইলে ভোটের ফল যা-ই হোক, ইতিহাসে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
ভোটের আগের রাতেই এতো অনিয়ম, সহিংসতা ও অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে ভোটের দিন কী ঘটবে—সে আশঙ্কা এখন সবার মনে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা বা দুর্বলতা থাকলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
গণতন্ত্র কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনগণের অধিকার। সেই অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে জনগণই শেষ কথা বলবে। অন্যথায়, এই নির্বাচন গণরায়ের উৎসব নয়, বরং ষড়যন্ত্রের নির্বাচন হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
লেখক ও গবেষক:
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩