প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৬, ৯:৫৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৬, ২:১৪ পি.এম
চট্টগ্রাম লিংক রোডে র্যাবের অভিযানে একরাম সুলতান গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের দাবি অতীতের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য
চট্টগ্রামের বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোড এলাকায় র্যাবের এক অভিযানে একরাম সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সোমবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।যদিও এ বিষয়ে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোডের ১৮৫এ আরেফিন নগরস্থ আল ভারাকা হাইটস নামের বহুতল ভবনে অভিযান চালায় র্যাব ৭ চট্টগ্রাম।ভবনটি ঘিরে রেখে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়।অভিযানের একপর্যায়ে একরাম সুলতানকে আটক করা হয়।স্থানীয়দের দাবি তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও কিছু গোলাবারুদ সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।পরে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় র্যাব সদস্যরা। একই সময় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে র্যাবের একটি সূত্র জানায় গ্রেফতার একরাম নিহত সরোয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া একটি অপহরণের অভিযোগ বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে ফোনে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলেও সূত্রটি উল্লেখ করে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আড়ালে থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি র্যাব ৭ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন শিগগিরই প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে গ্রেফতার একরাম সুলতানের স্ত্রী দাবি করেছেন তার স্বামী নির্দোষ। তিনি বলেন আমার স্বামী বাসাতেই ছিলেন। আমাদের বাসায় কোনো অস্ত্র ছিল না। পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন আমি গর্ভবতী। বাসায় ফিরে ভেতরের অবস্থা ফেসবুকে লাইভে দেখাতে চেয়েছিলাম কিন্তু র্যাব সদস্যরা তাতে বাধা দেন। তার অভিযোগ অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য একরাম সুলতান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তাদের দাবি তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেও স্থানীয়ভাবে একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। কেউ কেউ তাকে চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোড ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এ অভিযানের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে এলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। র্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ের পর পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩