নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ব্রম্মপুর গ্রামে সরকারি ভিজিএফের চালের কার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করে ষাটোর্ধ বয়সী এক বৃদ্ধা, পুত্রবধূ ও নাতিকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর আহত বৃদ্ধা নারী ও তার পুত্রবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জয়নগর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর স্থানীয় নেতা সুলতান আলী ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গরীব ও দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য চালের কার্ড প্রস্তুতের কাজ করছিলেন। এ সময় ভিকটিম আলিমন বেগম (৬৫) তার কাছ থেকে একটি কার্ড চাইলে এক পর্যায়ে বাগবিতন্ডা শুরু শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এ সময় ব্রহ্মপুর এলাকার সুলতান সোনারপাড়া এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করছিলেন।
অভিযোগ মতে, আলিমন বেগম ১০ কেজি চালের জন্য আবেদন করলে সুলতান রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
আলিমনের ছেলে জয়নাল আলী অভিযোগ করেন, তার মা চালের জন্য অনুরোধ করলে সুলতান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তোরা জামায়াত সমর্থক, তোরা জামায়াতে ভোট দিছিস, তোদের কোনো অনুদান দেওয়া হবে না। এ সময় তার মা প্রতিবাদ জানালে সুলতান তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন বলে দাবি করেন তিনি।
আলিমন বেগমের অভিযোগ, কার্ড চাইলে তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়— তোরা সবাই জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছিস, তোর নাতিরা জামায়াতের টোকেন বিতরণ করেছে। তোরা এই কার্ড পাবি না। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার পুত্রবধূ রেশমা বেগম (২৬) শাশুড়িকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়। মারধরের সময় তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কেটে যায়। এমনকি বাদ যায়নি রেশমা বেগমের একমাত্র শিশুপুত্র।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জয়নাল আলী বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও পরে হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রী ও মায়ের অবস্থা দেখেন রেশমা বেগমের স্বামী।
তিনি আরও বলেন, আমি ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম না। পরে এসে দেখি তারা হাসপাতালে ভর্তি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুলতানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসিল) শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩