পুরাতন মোবাইল ক্রয় করে ফেঁসে গেছেন বগুড়া মহস্থানগড়ের হোটেল শ্রমিক খুনের মামলায় 

 

স্টাফ রিপোর্টার

রাকিব মাহমুদ ডাবলু

 

বেশ কয়েক মাস আগে ঢাকা কামরাঙ্গীরচরে ১৩/১৪ বছর বয়সের এক কিশোর একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। রাতে বাড়ী ফেরার পথে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি খুনিরা তাকে হত্যা করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খুইয়ে নিয়ে যায়। এদিকে খুনের রহস্য উদঘাটন করতে কামরাঙ্গাচর থানার পুলিশ মাঠে নামে। তারা নিহতের একটি Vivo মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনিকে শনাক্ত করতে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এরপর খুনি শনাক্ত করতে নিহতের মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে পুলিশ নিশ্চিত হন নিহতের মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায়। কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ রওনা দেন বগুড়ার মহাস্থানগড়। লোকেশন মোতাবেক জানতে পারেন মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করছেন রাশেদুল নামের এক যুবক। রাশেদুল মহাস্থান একটি খাবার হোটেলের কারিগর হিসেবে শ্রমিকের কাজ করেন। তার বাড়ী গাইবান্ধা৷ রাশেদুল প্রায় ১ যুগের বেশি হবে মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড একটি খাবার হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেন। ছেলে হিসেবেও সে অমায়িক। তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েও ভালোই জানা গেছে। কিন্তু তাতে কি আইনের তীর যে তার দিকেই ধাপিত হচ্ছে। মার্ডার ফোনে তার সিম থেকেই কথা হয়েছে। তাকে আটক করতেই কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ ২ দিন যাবৎ গোড়াপত্তন করে মহাস্থানগড়। তারা বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা পুলিশ কে অবগত করে তাদের সহযোগীতায় রাসেদুলকে আটক করতে চালায় অভিযান৷ এরপর শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ও কামরাঙ্গীরচর থানা হতে কালো রঙের একটি হাইস- গাড়ী নিয়ে আসা ফোর্স অভিযান চালিয়ে মহাস্থান জাদুঘর রোডের নেকসো বিদ্যুৎ অফিসের পূর্বপাশে একটি ভাড়া বাসা থেকে রাশেদুল কে আটক করেন আভিযানিক পুলিশ। এসময় তার কাছে সেই সিম পাওয়া গেলেও কাঙ্ক্ষিত সেই খুন হওয়া মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল জানায়, ফোনটি সে ক্রায় করেছিল এবং সেই ফোন তার কোন এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। কোথায় কে বা- কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে মোবাইল ফোন হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে তাকে নিয়ে চম্পট দেয় পুলিশ। উদ্দেশ্য মোবাইল ফোন কোথায় থেকে ক্রয় করেছে এবং কোথায় বিক্রি করেছে। আদৌও কি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আছে কি না এমন প্রশ্ন রাশেদের ওপর ছুড়ে স্থানীয় সংবাদিকদের বিষয়টি খোলাসা করে অভিযানে আসা কামরাঙ্গরচর থানার এসআই জয়নাল আবেদীন বলেন, যেহেতু একটি খুন হয়েছে সেই খুন হওয়া ব্যক্তির ফোনে সে তার সিম ব্যবহার করে কথা বলেছে ঘটনার পিছনে তো ঘটনা আছেই। এটি সহজে বোঝা যাবে না অনেক সময়ের প্রয়োজন। এদিকে হোটেল শ্রমিক রাশেদুল জানিয়েছেন, তিনি কোনোদিন ঢাকায় যাননি। পুরোনো ফোন কিনে যেনো খুনের মামলার আসামি হলেন। রাশেদুর ভাল ছেলে অনেকেই বলাবলি করলেও কোন সুপারিশ কাজে দিচ্ছে না। সবাই দামি বা কমদামি পুরাতন ফোন কেনা থেকে বিরত থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *