বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনার আরেক নাম ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতিরোধ বাহিনী ছিলো ‘পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবির’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা ঐতিহাসিক নওগাঁ বাজার এলাকায় পলাশডাঙ্গা যুবশিবির গড়ে তোলেন। এ সংগঠনে যোগ দেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও বগুড়া অঞ্চলের প্রায় ৭৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) ঐতিহাসিক নওগাঁ যুদ্ধ দিবস। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ বাজার এলাকায় ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধে উত্তরবঙ্গের বেসরকারি সাব-সেক্টর কমান্ড পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

পলাশ ডাঙ্গা যুবশিবিরের সহ-সর্বাধিনায়ক সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন ওই সম্মুখ যুদ্ধের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, সাইদুর রহমান সাজু, প্রয়াত আফজাল হোসেন, আরশেদ আলী, আব্দুল কুদ্দুস, প্রয়াত নাজেম উদ্দিন সহ আরো অনেকেই ওই যুদ্ধে অংশ নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনের প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালে নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজ চত্বরে স্থায়ীভাবে নির্মিত রয়েছে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি জাদুঘর, যা স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে বুকে ধারণ করে স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান জানান, ২৫ মার্চ/৭১ রাতেই পাকিস্তানি সেনারা সিরাজগঞ্জ শহরে ঢুকে দেশীয় দোসরদের সহায়তায় শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। আতঙ্কিত মানুষ শহর ছাড়তে শুরু করে, তাদের অত্যাচার চলতে থাকে মাসব্যাপী। ২৪ এপ্রিল/৭১ পাক হানাদার বাহিনীর আরও একটি দল পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ট্রেনে করে আসার পথে ঘাটিনা রেলওয়ে সেতুর কাছে প্রথম প্রতিরোধে মুখে পড়ে।

পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, সরকারী পৃষ্টপোষকতায় কেবল এখানে একটি স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তীতে আজ অবধি এই সংগঠনের পৃথক স্বীকৃতি ও যোদ্ধাদের খেতাব, পুরস্কার ও পদ পদবী এই বাহিনীর ভাগ্যে তেমনটি জোটে নাই। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শুরুতে এই বাহিনীর বড় অংশ যুদ্ধের প্রয়োজনে, দ্রুত যোগাযোগের বাহন হিসেবে নৌকাকে বেছে নিয়েছিল। এপ্রিল-মে মাসে যুদ্ধের শুরুতে গেরিলারা নৌকায় উঠেছিল ।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের জাংলাগাঁতী গ্রামে পলাশডাঙ্গা যুব শিবির এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের এপ্রিল-মে মাসে। শহর থেকে মাত্র ১০/১১ মাইল দূরে হলেও তৎকালীন সময়ে যাতায়ত ব্যাবস্থা অনুন্নত থাকার কারণে আত্ম গোপন ও পুনর্গঠিত হওয়ার জন্য সুবিধাজনক জায়গা ছিল এটি। সর্বোপরি সেখানে আশ্রয় ও সুরক্ষা দেওয়ার জনগোষ্ঠী থাকার করণেই পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবিরের যাত্রা অনেক সহজ হয়েছিল। সেই বছরের বন্যার কারণে জাংলাগাতী গ্রামেরে চারিদিকে জলমগ্ন ছিল।

১৯৭১ সালের এপ্রিল -মে মাসে অতি বৃষ্টি আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। আগাম বন্যা পরিস্থিতি যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *