আমবাড়িয়া গণকবর: ৫০ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি

 সাব্বির মির্জা স্টাফ রিপোর্টার

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত যে স্বাধীনতা, সেই স্বাধীন দেশে আমরা কতটুকুই স্মরণ রেখেছি সে সব বীর শহীদদের অবদান। আমরা বড়ই আত্নভোলা আর অকৃতজ্ঞ জাতি-এমন অভিযোগ এক্ষেত্রে অনেকটাই প্রাসঙ্গিক।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে গণকবরে সমাহিত আছেন পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত অন্তত ১৩ জন শহিদ বাঙ্গালি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি মেলেনি এই গণ কবরের।

১৯৭১ সালে ১৩ নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনী হানা দেয় ওই আমবাড়িয়া গ্রামে। এদিনে একের পর এক যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনী কাপুুরুষের মতো সাধারণ গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জ্বালিয়ে দেয় আমবাড়িয়া গ্রাম। ১৩ জন সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করে পাক হানাদারেরা। শহীদরা হলেন- আমবাড়িয়া গ্রামের শহিদ ইয়ার মোহাম্মাদ, শহিদ মেহের মন্ডল, শহিদ সুলতান সেখ, শহীদ সফিজ উদ্দিন সেখ, শহীদ দেছের আলী, শহীদ ফয়েজ উদ্দিন, শহীদ মোক্তার হোসেন, শহীদ ওসমান আলী, শহীদ মজিবর রহমান, শহীদ কিয়ামত আলী, শহীদ জুব্বার ফকির, শহীদ আমিন উদ্দিন, শহীদ আব্দুর রহমান তাদের ১৩টি কবর এক সারিতে দেয়া আছে। ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন- মাওলানা তাজ উদ্দিন ও দেছের আলী প্রামানিক।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই আত্মত্যাগকারী শহিদদের স্মরণে তাড়াশ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে আমবাড়িয়া গণকবরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান সাজু জানান, ৭১ সালের ১১ নভেম্বর উপজেলার নওগাঁ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয় পাকবাহিনী। ঐ যুদ্ধে প্রায় এক কোম্পানি পাকসেনা ও অর্ধশতাধিক রাজাকার নিহত হয়। নওগাঁ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার দু’দিন পর প্রতিশোধ নিতেই পার্শ্ববর্তী আমবাড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় হানাদার বাহিনী। নির্বিচারে গুলি করে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে গ্রামের তিনজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী দশজন যুবককে।

মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান  এম. আতিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রতিবছর ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে আমবাড়িয়ায় কর্মসূচি পালন করা হলেও ১৩ নভেম্বর গণহত্যা দিবসে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় না। 

 স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও তাড়াশের আমবাড়িয়া গণকবরের স্বীকৃতি মেলেনি। তবে সব নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলেও সরকারিভাবে পালন হচ্ছে না দিবসটি। তাই এ বছরও তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমবাড়িয়া গণহত্যা দিবস পালন করবেন। একইসঙ্গে তিনি সরকারিভাবে দিবসটি পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম বলেন, পাক-হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের কালের সাক্ষী আমবাড়িয়া গণকবর। এ দিন গণহত্যা দিবস পালনে স্থানীয়ভাবে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *