কালজয়ী ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

কালজয়ী ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রোববার ও সোমবার ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার বিকেল ৪ টা থেকে লাহিনীপাড়া মীর মশাররফ এর বাস্তভিটায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রোববার অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী মনজুর কাদির, কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু, কবি ও লেখক আলম আরা জুঁই, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব।

আলোচক ছিলেন সাংবাদিক লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান। এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাপড়া ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জু।

মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মীর মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মাতার নাম দৌলতুন্নেছা।

মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলা ভাষার একজন অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত বিষাদ সিন্ধু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম।

তার স্কুল জীবন কেটেছে প্রথমে কুষ্টিয়ায়, পরে পদমদী এবং শেষে কৃষ্ণনগর শহরে। জগমোহন নন্দীর পাঠশালা, কুমারখালীর ইংলিশ স্কুল, পদমদী নবাব স্কুল, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন বলে তার আত্নজীবনীতে উল্লেখ আছে। তবে তার কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয় ফরিদপুরের নবাব এস্টেটে চাকরি করে। তিনি কিছুদিন কলকাতায়ও বসবাস করেন।

মীর মশাররফ হোসেন তার বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে উপন্যাস, নাটক, কাব্য ও প্রবন্ধ রচনা করে আধুনিক যুগে মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যে সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন। এখন পর্যন্ত মীর মশাররফ হোসেনের মোট ৩৭টি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে।

মীর মশাররফ প্রথম জীবন থেকেই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। ভাষা ব্যবহারে তিনি যে উদার ও মুক্তমনের পরিচয় দিয়েছেন, তা ছিল সেই যুগে দুর্লভ। ‘বিষাদ-সিন্ধু’তে আরবি-ফারসি শব্দ যথাসম্ভব বর্জন করে তিনি সংস্কৃতজ বাংলা শব্দ ব্যবহার করেছেন।

বাঙালি মুসলমানের মধ্যে মীর মশাররফ ছিলেন ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রবক্তা। তিনি তার সম্পাদিত পাক্ষিক পত্রিকা ‘হিতকরী’ (১৮৯০) এবং সাহিত্যচর্চায় দেশ, ভাষাপ্রীতি ও বাঙালিবোধ উপলব্ধির ক্ষেত্রে আরও প্রাজ্ঞ ও পরিণত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, বোধ-বিশ্বাস-চেতনায় নিজেকে আরও সুদৃঢ় করেছেন।

মীর মশাররফ হোসেন মাত্র আঠারো বছরে বয়সে তার পিতার বন্ধুর কন্যা আজিজুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দেলদুয়ার এস্টেটে ম্যানেজার থাকাকালেই মৃত্যুবরণ করেন। তাকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির পদমদীতে দাফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *