সিরাজগঞ্জে বট-পাকুড় গাছের বিয়ে

সাব্বির মির্জা স্টাফ রিপোর্টার

বরের সাজে ধুতি, পাঞ্জাবি আর মুকুট পড়েছে পাকুড় গাছ। তাকে জড়িয়ে থাকা বট গাছটিকে শাড়ি, মালা, শাখা, সিঁদুর পরিয়ে সাজানো হয়েছে কনে। আলোকসজ্জা, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আর সাউন্ডবক্স বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দেওয়া হলো বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে। আয়োজন ছিল নৈশ ভোজেরও। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এভাবেই হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিয়ে দেওয়া হলো বট ও পাকুড় গাছের।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় মহা ধুমধামের মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

ওই গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী শীতল সরকারের বাড়িতে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, এই আয়োজনে প্রায় ৫শ’ অতিথি অংশ নেয়। এছাড়াও বিয়ে দেখতে বিভিন্ন বয়সী শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়।

শীতল সরকার জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তার বাড়িতে একটি পাকুড় গাছের জন্ম হয়। বেশ কয়েক বছর পর ওই পাকুড় গাছের পাশেই আরও একটি বটগাছের জন্ম হয়। হিন্দু শাস্ত্রে বট ও পাকুড় গাছ পাশাপাশি জন্ম হলে তাদের মধ্যে বিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই বিয়ে না দেওয়ায় তাদের পরিবারে বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যা ও সংকট দেখা দেয়। এসব সমস্যার কারণে সেই পাকুড় ও বট গাছের বিয়ের আয়োজন করতে পারেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি ও আমার পরিবার একাধিকবার স্বপ্ন দেখি বট ও পাকুড়ের বিয়ে না দেওয়ায় এসব পারিবারিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই পারিবারিক সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে উৎসবমুখর পরিবেশে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম, গোপালপুর গ্রামের আনন্দ মোহন, দেবাশীষ মণ্ডল মিঠুনসহ স্থানীয় অনেকেই বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই শীতল সরকারের বাড়িতে চলছিল বট ও পাকুড় গাছের বিয়ের আয়োজন। বিয়ে উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে পুরো গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এছাড়া বিয়ে উপলক্ষে আলোকসজ্জা আর ঢাক ঢোলের পাশাপাশি সাউন্ড বক্সে নানা গান বাজিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথিরা।

রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বট ও পাকড় একই স্থানে জন্ম হলে তাদের মধ্যে বিয়ে পড়াতে হয়। এ কারণে শীতল সরকার বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বিয়ে সম্পন্ন করে। ব্যতিক্রমী এ বিয়েতে অতিথি ছাড়াও আশপাশের গ্রাম থেকে আসা প্রায় ৫শ’ লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *