সিংগাইরে  এসএসসি  পরীক্ষার্থীদের প্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায় বাড়তি অর্থ  হাতিয়ে  নেওয়ার অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম, সিংগাইর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

ব্যবহারীক  পরীক্ষার সিংগাইরের বিভন্ন  উচ্চ  বিদ্যালয়ে  ২০২২ সালের   এসএসসি  পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে  অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।  এ ব্যবহারিক   পরীক্ষায়   একেক জন  শিক্ষার্থীদের  নিকটহতে  দুই থেকে চার শত  টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শিক্ষকেরা । কোন নিয়মনীতি  তোয়াক্কা না করে   এ অতিরিক্ত টাকা  নিম্ম বিত্ত কিংবা মধ্য বিত্ত পরিবারের  মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি  হচ্ছে ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ২০২২ সালে  ৩০০৮ এসএসসি ও দাখিল পরিক্ষায় ২৫৯ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে হয়েষ্। সিঙ্গাইর,জয়মন্টপ ও সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ টি কেন্দ্রে এ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই ব্যবহারিক পরিক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার(১৩ অক্টোবর) দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার কথা বলে এসব অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।

জামশা বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিক্ষার্থী ওমর ফারুক ও মোঃ রাকিব জানান, আমরা ব্যবসায়ী শিক্ষা বিভাগে পরিক্ষা দিতে সিঙ্গাইর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসেছি। শিক্ষকরা আমাদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরিক্ষার কথা বলে ৪০০ টাকা নিয়েছে। এসব টাকার জন্য আমাদের দেওয়া হয়নি কোন আদায় রশিদ। টাকা না দিলে হয়তো ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমাদের সঠিক নম্বর দিবে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা সবাই ৪০০ টাকা করে দিয়েছি।

তালেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যুবায়ের, শাহারিয়ার ও মোঃ জাকারিয়া জানান, আমরা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। আমাদের প্রতি প্রতিটি বিষয়ে ৫০ টাকা করে মোট ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

সিঙ্গাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আক্রাম হোসাইন বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আমাদের সময় আমরা ১০/২০ টাকা করে দিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতাই ৫০/১০০ টাকা নিতে পারে। এর বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় এ টাকাগুলো শিক্ষকরা আনন্দ ফূর্তির জন্য নিয়ে থাকেন।

সিঙ্গাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রউফ,সহকারী শিক্ষক খান শাহিন ও দেলোয়ারা খাতুন বলেল, আমাদের ১৪৮ জন পরিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৫ জন ২০০ টাকা করে দিয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরনের খরচ মেটাতে এ টাকা ব্যবহার করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনা পারভিন, ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম নেই। টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। আপনি ইউএনও সাহেবকে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। আর টাকা নেওয়ার বিষয়টিও আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *