অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির এজিএম ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান –

তরিকুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

“হৃদয়ের টানে ফিরে আসি বারবার ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩১ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুনর্মিলনী-২৪। বিকেল ৩ টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছুটা দেরীতে শুরু হয়। প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা ৩ টার পরপরই অনুষ্ঠান স্হলে ( সেতু ভবন) আসতে থাকে। কানায় কানায় পূর্ণ হয় অডিটোরিয়ামের সুসজ্জিত আসনগুলো। দীর্ঘদিন পর দেখা, গল্প গুজবে আর সেলফি তোলা তুলি নিয়ে মেতে থাকতে দেখা যায় সবাইকে। এ যেন অন্যরকম মিলনমেলায় পরিণত হয় সেতু ভবনে অডিটোরিয়ামটি। অনেকের চুল দাড়ি ধবধবে সাদা। বন্ধুত্বের কাছে বয়স যে কোন বিষয়েই না এ কথাটি প্রমাণিত হয়ে গেল এই মিলনমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচানাচির মাধ্যমে। বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লূত হতে দেখা অনেককে। মনে হলো এটাই যেন সেই কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাস। বন্ধুত্বের টানে ঢাকা ছাড়াও সুদূর পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, জামালপুর ও রংপুর থেকে অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ড. রেহেনা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জনাব এম ইনায়েতুর রহিম। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব জনাব জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব রকিবুস সুলতান মানিক। তিনি সমিতির শুরুর দিকের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ঢাকায় সমিতির একটা নিজস্ব স্হায়ী অফিস হয়েছে এ কথা ভেবে মনটা ভরে যায়। অফিস ভবন ক্রয়ের জন্য যাঁরা সহযোগিতা করেছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখার জন্য সমিতির কোষাধক্ষ্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জনাব জিয়াউর রহমান জিয়াকে উপস্থিত সকলে করতালির মাধ্যমে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়।
অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জনাব বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, জনাব ডা. হালিদা হানুম আখতার, মো. আতাউর রহমান প্রধান, মো. সাইদুল আবেদীন ডলার, ড. মো. নজরুল ইসলাম, ড. মো. জাকেরুল আবেদিন আপেল, এডভোকেট জিয়াউর রহমান, ড. রেহেনা খাতুনসহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, আজকে আমাকে খুবই ভালো লাগছে যে আমরা সবাই কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যদিও বিচারক হিসেবে এ ধরণের অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত হতে পারিনা। কিন্তু কি আর করার হৃদয়ের টানে চলে এসেছি। তিনি ডাঃ হালিদা হানুমের কথা বার বার উচ্চারণ করে বলেন, তিনি আমাদের গর্ব, কারমাইকেল কলেজের গর্ব। তিনি দেশ-বিদেশে সুনামের সহিত কাজ করে যাচ্ছেন জেনে আমি খুবই আনন্দিত। তিনি ডাঃ হালিদা হানুমের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংগঠনটাকে আমরা সবাই ভালোবাসি একথা বলতে দ্বিধা নেই কারো। কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আজ আমরা গর্ববোধ করে বলতে পারি, ঢাকার বুকে আমাদের একটি স্হায়ী অফিস আছে। আমরা আজকে আছি, এক সময় হয়তো থাকবো না, আপনাদের মধ্য থেকে কাউ না কাউকে এ দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি সংগঠনের প্রতি সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, আজ আমরা যে যে অবস্থানে থাকি না কেন আমরা সবাই কারমাইকেলিয়ান। আমাদের পরিচয় আমরা কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সংগঠনকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি। হৃদয়ের টানে দূর দূরান্ত থেকে কষ্ট করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি মহোদয়।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সবার হাতে উপহার সামগ্রী ও ঝকঝকে একটি স্মরণিকা তুলে দেওয়া হয়। এতে রয়েছে কারমাইকেল কলেজকে নিয়ে কিছু তথ্যবহুল লেখা, বিশিষ্টজনের বাণী, আজীবন ও সাধারণ সদস্যে তালিকা। যা সবাইকে আকৃষ্ট করেছে। আসনে বসেই লেখাগুলো পড়তে দেখা গেছে অনেককে।
সাধারণ সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা, কন্ঠ শিল্পী প্রতিক হাসান, পল্লবী সরকার ও অন্তর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সবাইকে উপভোগ করতে দেখা যায়।রাত ৯ টা পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠান শেষে রাতের খাবারের ব্যবস্হা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *