বাঁশখালীতে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।
সহকারী বার্তা সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন সেলিম
/ ২৩
বার দেখা হয়েছে
আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
শেয়ার করুন
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জঙ্গল গুনাগরী এলাকায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ হস্তক্ষেপ, প্রাণনাশের হুমকি ও বন্দোবস্তকৃত জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ নিছপাতুল ইসলাম চৌধুরী বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনি সহায়তা কামনা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মোঃ নিছপাতুল ইসলাম চৌধুরী পেশায় একজন নাবিক (মেরিন প্রকৌশলী) এবং প্রায় চার দশক ধরে নিজস্ব ও বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। পেশাগত কারণে তিনি অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করায় বাড়িতে তার মা ও ছোট ভাই থাকেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী মোঃ মমতাজ উদ্দিন ও তার পরিবার ধারাবাহিকভাবে জমি দখল, গালাগাল, মানহানি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা— এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা চালাচ্ছে, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে, যা পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি, জমির সীমানার কাঁটাতার বেড়া ও গাছপালা নষ্ট করছে, প্রাচীর নির্মাণের সময় শ্রমিকদের মারধর ও নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর করেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, এসব ঘটনায় আনুমানিক ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, ২০২৫ সালের জুনে তার পিতার মৃত্যুতে অভিযুক্তরা দাফন কার্যক্রমে বাধা প্রদান এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড ওমর সানি আকন বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমাদের কাছে গুরুত্ব সহকারে এসেছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। ভূমি দখল ও চাঁদাবাজি এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন অনুসারে প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভুক্তভোগীর দাবি: মোঃ নিছপাতুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, “পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চাই। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে, যা আমাদের জীবন ও মানহানির জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।” সাম্প্রতিক পরিস্থিতি : ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে স্কেভেটর ও ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহন করছে। এই কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, তারা সম্প্রতি জমিতে পাকা প্রাচীর নির্মাণের জন্য শ্রমিক ও নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর করেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংঘবদ্ধ কার্যক্রম এলাকায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।