তাড়াশ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৩ নম্বর সগুনা ইউনিয়নের লালুয়ামাঝিরা গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দলিল জালিয়াতি, জোরপূর্বক জমি দখল এবং একের পর এক হয়রানিমূলক মিস কেস দায়েরের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শামসুজ্জোহা।
অভিযোগকারী জানান, ২০০৭ সালে তার বাবা আব্দুল হালিমের নামে সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি সম্পন্ন হয়, যার খতিয়ান নম্বর ১০০৩। ২০১০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, এরপরও ২০১৭ সালে কীভাবে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে ওই জমির দলিল সম্পাদিত হয়, সেটি রহস্যজনক এবং তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
শামসুজ্জোহার দাবি, জসিমউদ্দিন খন্দকার, আবু জাফর ও রেজাউল করিম দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে জমির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে তদন্ত শেষে জসিমউদ্দিন খন্দকারের নামে করা নামজারি বাতিল করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, তার দায়ের করা মিস কেস নং-২০৫-এ জসিমউদ্দিন খন্দকারের নামে করা নামজারি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে জসিমউদ্দিন খন্দকার শামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে মিস কেস নং-৬৩ দায়ের করেন। তবে ওই মিস কেসেও তার দাবি গৃহীত হয়নি বলে অভিযোগকারী জানান।
বর্তমানে জমিটি শামসুজ্জোহার নামে নামজারিভুক্ত রয়েছে, যার খতিয়ান নম্বর ২৫/১৬০৮। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, প্রশাসনিকভাবে সফল হতে না পেরে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানিমূলক মিস কেসের মাধ্যমে তাদের মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে জমিটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়া হয়। প্রশাসনিক ও আইনি প্রতিকার চেয়ে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগকারী পক্ষ আরও জানায়, অভিযুক্তদের একজন রেজাউল করিম ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর পর জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও চলমান আইনি কার্যক্রমে তার উত্তরাধিকারীদের (ওয়ারিশদের) পক্ষভুক্ত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
প্রতিপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জসিমউদ্দিন খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা তাকে কোনো জমি দেব না।” তবে অভিযোগকারীর উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। পরবর্তীতে আরও বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অপর অভিযুক্ত আবু জাফরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত রেজাউল করিম মৃত্যুবরণ করায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।