বাবার স্বপ্ন থেকে ৪৭তম বিসিএসে ট্যাক্স ক্যাডার: কুড়িগ্রামের হাবিবা জান্নাত হাসির অনন্য সাফল্যের গল্প
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম, পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং নিজের লক্ষ্যপূরণে অবিচল প্রচেষ্টাই এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার লাকীহল পাড়ার মেয়ে হাবিবা জান্নাত হাসি ৪৭তম বিসিএসে ট্যাক্স ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিজের পাশাপাশি পরিবার ও এলাকার জন্যও গৌরব বয়ে এনেছেন।
১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার লাকীহল পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন হাবিবা জান্নাত হাসি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু ভূরুঙ্গামারী কিশলয় বিদ্যা নিকেতন থেকে। এরপর ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য তিনি ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিলে ভর্তি হন। ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করে মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হন তিনি। যদিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে বাবার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস ও চাকরির প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৪৭তম বিসিএসে ট্যাক্স ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে হাবিবা জান্নাত হাসি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। এলাকায় কেউ শিক্ষাক্ষেত্র বা চাকরিতে ভালো করলে বাবা সেই গল্প শুনিয়ে তাঁকে অনুপ্রাণিত করতেন। এসএসসির পর দেশের সেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মানসিকতা গড়ে তুলতেই বাবা তাঁকে ঢাকায় পড়তে পাঠান।
তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাই সবসময় পাশে থেকে সাহস ও সহযোগিতা করেছেন। আর জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মায়ের দোয়া। তাঁর বিশ্বাস, মায়ের দোয়া তাঁকে প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করতে সহায়তা করেছে।
এছাড়া স্বামীর অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বিসিএস প্রস্তুতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বামী একজন দক্ষ মেন্টরের মতো পাশে থেকেছেন। বর্তমানে তাঁর স্বামী ৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাবিবা জান্নাত হাসির এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি কুড়িগ্রামের তরুণ-তরুণীদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার নাম। স্বপ্ন, অধ্যবসায়, পরিবারের সমর্থন এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব—তাঁর সাফল্যের গল্প সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।