স্বপ্নভঙ্গ থেকে প্রশাসন ক্যাডার—৭ বিসিএসের লড়াই শেষে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে আশফাত হোসেন
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে স্বপ্ন থেমে থাকেনি। নতুন লক্ষ্য স্থির করে নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে টানা সাতটি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অবশেষে চতুর্থ ভাইভায় ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে (মেধাক্রম ৮৬তম) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছোট টেমসা গ্রামের সন্তান আশফাত হোসেন।
আশফাত হোসেন ২০১১ সালে এসএসসি পাস করার পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে পাড়ি জমান। তবে ২০১৩ সালে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে না পারায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বিএসসি সম্পন্ন করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন স্বপ্ন—বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হওয়ার।
স্বপ্নপূরণের এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। একের পর এক পরীক্ষা, ব্যর্থতা, হতাশা—সবকিছু পেরিয়ে টানা সাতটি বিসিএসে অংশ নেন তিনি। অবশেষে চতুর্থ ভাইভায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়। ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায় ও ধৈর্যের কাছে ব্যর্থতা কখনোই শেষ কথা নয়।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তাঁর বাবা। আশফাত জানান, তাঁর বাবার আজীবনের স্বপ্ন ছিল মানুষ যেন তাঁকে “ম্যাজিস্ট্রেটের বাবা” বলে ডাকে। কিন্তু ছেলের এই সাফল্য দেখার আগেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। বাবার সেই অপূর্ণ স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আবেগঘন কণ্ঠে আশফাত বলেন, “বাবা আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তিনি এখন একজন ম্যাজিস্ট্রেটের বাবা। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর বিসিএস যাত্রায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধব সবসময় পাশে ছিলেন। তাঁদের অনুপ্রেরণা, সাহস এবং অবিচল সমর্থনই কঠিন সময়গুলো পার করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
ভবিষ্যৎ বিসিএস প্রত্যাশীদের উদ্দেশে আশফাত হোসেন বলেন, “স্বপ্ন দেখুন। স্বপ্ন ভাঙতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে কখনো বিশ্রাম নিতে দেবেন না। আমি বহুবার ভেঙে পড়েছি, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। সবসময় মনে রেখেছি—আল্লাহ পরিশ্রমীদের পক্ষেই থাকেন। ধৈর্য, একাগ্রতা এবং মহান আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।”
আশফাত হোসেনের এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, জীবনের কোনো ব্যর্থতাই শেষ গন্তব্য নয়। লক্ষ্য স্থির রেখে নিরলস পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং ধৈর্যের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্নই একদিন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।