শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তাহিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে কলাগাঁও বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন। লন্ড‌নে সিলেট শাহজালাল হাউজিং এস্টেটস প্রবাসী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যো‌গে সভা অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে ডেভিলের হামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আহত। জুলাই গণঅভ্যুঙ্খান দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে সুনামগঞ্জে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত। যুগ যুগ ধরে কাঁচা রাস্তা, হাঁটু পানিতে বন্দি ঘাগড়া পুটল পাড়া:হাজারো মানুষের দুর্ভোগ সুনামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ১ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি ও দুটি নৌকা জব্দ। ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের, আসামে গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তরের দাবী। মহারশি নদীতে ডুবে প্রাণ হারানো ইদ্রিস আলীর পরিবারে (ইউএনও)আল-আমীনের মানবিক সহায়তা: ২৫ হাজার টাকার চেক ও শুকনা খাবার প্রদান ‘সংকল্পের কাছে বিকল্প নেই: অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত’ ‘সংকল্পের কাছে বিকল্প নেই: অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত’

‘সংকল্পের কাছে বিকল্প নেই: অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত’

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন : / ২০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

‘সংকল্পের কাছে বিকল্প নেই: অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত’
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:

সাত বিসিএসের দীর্ঘ লড়াই; প্রথম বার নন-ক্যাডার, দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, তিনবার শিক্ষা ক্যাডার —অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে শিহাব খানের স্বপ্নপূরণ।

সাফল্যের পেছনে থাকে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, অগণিত ব্যর্থতা, অদম্য ধৈর্য এবং নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার শিহাব খানের জীবনের গল্প যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। সাতটি বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘ পথচলায় কখনও নন-ক্যাডার, কখনও ক্যাডার, কখনও ভাইভা দিয়েও শূন্য হাতে ফিরে আসার বেদনা—সবকিছু পেরিয়ে অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

২০২৬ সালের ২৮ জুন প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের ফলাফলে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন শিহাব খান।

তবে এই আনন্দের মুহূর্তেও সবচেয়ে বড় শূন্যতা হয়ে রয়ে গেছে তাঁর বাবা। কারণ, ফল প্রকাশের মাত্র ১৯ দিন আগে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। বাবার আজীবনের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে পুলিশ ক্যাডার হিসেবে দেখবেন।

কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের মুহূর্তটি তিনি দেখে যেতে পারেননি।
রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের চরলক্ষীপুর (হরিরামপুর) গ্রামের সন্তান শিহাব খান।

তাঁর বাবা আব্দুস শুকুর। শিহাব ২০১১ সালে উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে পাংশা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিসিএসের দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর অর্জনের তালিকাও কম নয়।

৪১তম বিসিএসে ৯ম গ্রেডে নন-ক্যাডার হিসেবে প্রকৌশল কলেজে রসায়নের প্রভাষক পদে সুপারিশ পান। ৪৩তম ও ৪৫তম বিসিএসে ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও চূড়ান্ত সুপারিশ পাননি। ৪৪তম বিসিএসে কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারে এবং ৪৬তম ও ৪৯তম (বিশেষ) বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে রসায়ন বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সবশেষে ৪৭তম বিসিএসে অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত পুলিশ ক্যাডার।

শুধু বিসিএসেই নয়, চাকরি জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সমন্বিত ব্যাংক-২০২০
এর মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের জেনারেল অফিসার এবং সিনিয়র অফিসার পদেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিহাব খান বলেন, বিসিএস শুধু একটি চাকরির পরীক্ষা নয়; এটি ধৈর্য, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তার কঠিন পরীক্ষা। তাঁর ভাষায়, “বিসিএস এক অদ্ভুত প্রেমচক্র। এখানে অর্জনের চেয়ে হারানোর ভয়ই বেশি। প্রতিটি ব্যর্থতা মানুষকে ভেঙে দেয়, আবার সামান্য একটি সফলতা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। সমাজ শুধু সফলতাই দেখে, কিন্তু সেই সফলতার পেছনের নির্ঘুম রাত, হতাশা আর সংগ্রামের গল্প খুব কম মানুষই জানতে চায়।”

পুলিশ ক্যাডারে যোগদান সম্পর্কে নিজের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, একজন সৎ, পেশাদার ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আইনকে নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে চান। অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ পুলিশের একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।

শিহাব খানের এই দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প নতুন প্রজন্মের বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর জীবন প্রমাণ করে—ব্যর্থতা কখনো শেষ নয়; ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিই একদিন সাফল্যের দরজা খুলে দেয়। বাবার স্বপ্ন পূরণ হলেও সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মানুষটি আজ আর নেই। তবুও তাঁর এই অর্জন নিঃসন্দেহে অসংখ্য স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য সাহস, প্রেরণা ও আশার প্রতীক হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর