প্রায় ৬ হাজার পরীক্ষার পর ব্যর্থতাকে জয় করে পুলিশ ক্যাডার এসএম জুনাইদ কবির সুপ্ত
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
স্বপ্ন ছিল, কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। একের পর এক ব্যর্থতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ফেল, ৪৫তম বিসিএসে অংশ নিতে না পারা, ৪৬তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় ব্যর্থতা—সবকিছু মিলিয়ে একসময় আত্মবিশ্বাস প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। তবুও থামেননি। দিনের পর দিন পড়াশোনা, অসংখ্য মডেল টেস্ট এবং নিজের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টির ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী এসএম জুনাইদ কবির সুপ্ত।
৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রমাণ করেছেন—ব্যর্থতা কখনোই শেষ কথা নয়; বরং চেষ্টা অব্যাহত থাকলে ব্যর্থতাই একসময় সাফল্যের সিঁড়ি হয়ে উঠতে পারে।
সুপ্তের গল্প শুধু একজন ক্যাডার হওয়ার গল্প নয়। এটি স্বপ্ন হারিয়ে আবার স্বপ্ন দেখার, আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানোর এবং পরিবারের অগাধ বিশ্বাসকে শক্তিতে পরিণত করার গল্প।
যেদিন স্বপ্ন সত্যি হলো
২৮ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা ২১ মিনিট। জীবনের এই সময়টুকু হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারবেন না সুপ্ত।
বিসিএসের ফল প্রকাশের পর রেজাল্টের PDF হাতে নিয়ে প্রথমে ছুটে যান আম্মার রুমে। বারবার মাকে ফলাফল দেখাচ্ছিলেন। আম্মা বলছিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, হয়েছে!” কিন্তু কোনোভাবেই নিজের বিশ্বাস হচ্ছিল না।
রোল নম্বর ঠিক আছে কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য অ্যাডমিট কার্ড ও ফলাফলের PDF ভাই-ভাবির সঙ্গে আবারও মিলিয়ে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ফোনে নিশ্চিত হন—রোল নম্বর ঠিকই আছে।
এরপর সবার আগে আব্বাকে ফোন করে সুখবরটি জানান। সাধারণত খুব একটা আবেগ প্রকাশ না করা বাবার কণ্ঠের পরিবর্তন সেদিন স্পষ্ট অনুভব করেছিলেন তিনি।
সুপ্তের কাছে জীবনের অনেক মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ২৮ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা ২১ মিনিট—এই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের আজীবনের নস্টালজিয়া হয়ে থাকবে।
টিউশনের ব্যস্ততা থেকে বিসিএসের স্বপ্ন
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা বিসিএসের প্রস্তুতির মতো ছিল না। সারাদিন টিউশন করানো, নিজের কোচিং সেন্টার পরিচালনা, মাসে একাধিকবার ভ্রমণ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও নানা ব্যস্ততায় কেটে যায় প্রথম দুই-তিন বছর।
ছোটবেলা থেকেই ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুপ্ত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যেন পুরোপুরি বদলে যায় সেই পরিচিতি। পড়াশোনায় অনীহা, কম সিজিপিএ, শেষের দিকের বেঞ্চ—এমনকি তাঁর আচরণ নিয়ে শিক্ষকেরা কয়েকবার তাঁর বাবা-মায়ের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন।
মায়ের একটি কথা তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল—“টিউশন করে কি সারা জীবন চলবে?”
এই প্রশ্নের মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের একটি বড় বার্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় নিজের পছন্দের জায়গায় পড়তে না পারার আক্ষেপও তাঁকে ভেতর থেকে তাড়িত করত। সেই আক্ষেপ থেকেই জন্ম নেয় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার আকাঙ্ক্ষা।
২০২২ সালের শেষদিকে বদলে গেল পথচলা
২০২২ সালের শেষদিকে, তখন তিনি তৃতীয় বর্ষের শেষ দিকে, নতুন করে পড়াশোনায় মনোযোগী হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও প্রচুর টিউশনের চাপের মধ্যেও সরকারি চাকরির প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকেন।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় ফেল করেন। ফলে একাডেমিক ফলাফল আরও ছয় মাস পিছিয়ে যায়। জীবনের সেই সময়টা ছিল ভীষণ হতাশার।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও সরকারি চাকরির প্রস্তুতি থামাননি তিনি।
৪৫তম বিসিএসের আগে তাঁর প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি ছিল বেশ ভালো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে না হওয়ায় সেই বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগই পাননি।
৪৬তম বিসিএস—সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়
এরপর ৪৬তম বিসিএসের প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন সুপ্ত। তাঁর ভাষায়, সেটিই ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি।
পরে দ্বিতীয় ধাপে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। উত্তরণের কঠিন পরীক্ষাগুলো এবং লাইভ এমসিকিউর নিয়মিত মডেল টেস্ট তাঁর প্রস্তুতির নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে।
একসময় এমন অভ্যাস তৈরি হয় যে, প্রতিদিন অন্তত সাত-আটটি পরীক্ষা না দিয়ে যেন দিন শেষই হতো না।
কিন্তু এত প্রস্তুতির পরও ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি তিনি।
পরপর ব্যর্থতায় আত্মবিশ্বাস প্রায় তলানিতে পৌঁছে যায়। তবুও থামেননি।
প্রায় ছয় হাজার পরীক্ষা—প্রস্তুতির সঙ্গী
বিসিএস প্রস্তুতির সময়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি পরীক্ষা দিয়েছেন লাইভ এমসিকিউ অ্যাপে। কনফিডেন্সের ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি এক্সাম ব্যাচে দিয়েছেন প্রায় ৪০০টি পরীক্ষা। উত্তরণের ৪৬তম বিসিএস প্রস্তুতিতে দিয়েছেন আরও প্রায় ২০০টি।
সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার পরীক্ষাই তাঁর দীর্ঘ প্রস্তুতির সঙ্গী।
এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুধু জ্ঞান যাচাই নয়, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং পরীক্ষার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাসও তৈরি করেছিলেন তিনি।
তবে তাঁর উপলব্ধি—শুধু পরিশ্রম করলেই সবসময় সাফল্য আসে না। অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। তাই ব্যর্থ হয়ে যারা হতাশ হয়ে পড়েন, তাঁদের জন্য তাঁর বার্তা—চেষ্টা থামানো যাবে না; কারণ কখন, কীভাবে সাফল্য আসবে, তা কেউ জানেন না।
৪৭তম বিসিএসে বদলে গেল সবকিছু
৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে কাটমার্কের চেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ নম্বর বেশি পেয়ে উত্তীর্ণ হন সুপ্ত। ততদিনে প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিতে তাঁর একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে।
কিন্তু ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার আগে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। আবারও ব্যর্থতা। ফলে আত্মবিশ্বাস প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
এমনকি ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু আব্বা-আম্মা তাঁকে বুঝিয়ে অন্তত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেন।
প্রশ্ন ছিল কঠিন। কীভাবে পরীক্ষা লিখেছেন, সেটিও তাঁর কাছে পরিষ্কার ছিল না। তাই লিখিত পরীক্ষায় পাস করবেন—এমন আত্মবিশ্বাসও ছিল না।
কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, সেই পরীক্ষাতেই তিনি পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত পুলিশ ক্যাডারের সুপারিশ।
‘ছয় মাসে ক্যাডার’ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি
সুপ্ত মনে করেন, বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
২০২৩ থেকে ২০২৬—এই সময়টাকেই তিনি তাঁর সরকারি চাকরির প্রস্তুতির মূল সময়কাল হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও বিসিএসের প্রস্তুতিতে অন্তত দুই বছর ধারাবাহিকভাবে সময় দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বিশ্বাস করেন, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত রিজিকের ব্যাপার। যে পরীক্ষায় পাস করার ব্যাপারেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না, সেখান থেকেই আল্লাহ তাঁকে একটি ভালো ক্যাডার দিয়েছেন।
সিনিয়রদের সহযোগিতা ছিল বড় শক্তি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিসিএস সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর দিক হিসেবে সিনিয়রদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন সুপ্ত।
তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর এক রুমমেট ভাই প্রথমে ব্যাংকের চাকরি পান এবং পরবর্তীতে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। আরেক রুমমেট কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
তাঁদের সাফল্য সুপ্তকে যেমন অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, কোন বই পড়তে হবে এবং কীভাবে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে—এসব বিষয়েও তাঁরা সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
সুপ্ত মনে করেন, একজন সিনিয়রের সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; তা জুনিয়রদের জন্যও নতুন স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
ভবিষ্যতে তিনিও একইভাবে জুনিয়রদের পাশে থাকতে চান।
কেন পুলিশ ক্যাডার?
এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টিতে পড়াশোনা করেও টেকনিক্যাল ক্যাডারের বাইরে পুলিশ ক্যাডারকে বেছে নেওয়ার পেছনে নিজের আগ্রহ, নেতৃত্ব, জনসেবা এবং চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন সুপ্ত।
তাঁর কাছে চাকরির মর্যাদার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ।
পুলিশে যোগ দিয়ে তাঁর প্রথম অঙ্গীকার সততা, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধি।
তিনি বিশ্বাস করেন, দেশ ও সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, নিজের আচরণ, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমেও মানুষের কাছে ইতিবাচক উদাহরণ হতে চান তিনি।
শিক্ষকের ভবিষ্যদ্বাণী যেন সত্যি হলো
স্কুলজীবনে উপজেলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানের ফার্স্ট বয় ছিলেন সুপ্ত। কলেজেও ভালো ফলাফলের শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের কাছে পরিচিত ছিলেন।
স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক প্রায়ই তাঁকে বলতেন, “সুপ্ত, তুমি একদিন প্রথম সারির একজন বিসিএস ক্যাডার হবে।”
কলেজের প্রথম বর্ষে ময়মনসিংহ শহরে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর গণিতের শিক্ষক টুটুল স্যার তাঁকে বলেছিলেন, “তুমি একদিন পুলিশ হও।”
সেদিন কথাগুলো হয়তো সাধারণ পরামর্শ বা আশীর্বাদ হিসেবেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কথাগুলোই যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে।
পড়াশোনার বাইরেও ছিল নানা অভিজ্ঞতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই নিয়মিত টিউশন করিয়েছেন সুপ্ত। একসময় নিজের কোচিং সেন্টারও পরিচালনা করেছেন।
ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন।
ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। রক্তদানসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
তাঁর মতে, এসব অভিজ্ঞতা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
পরিবারের বিশ্বাসই ছিল সবচেয়ে বড় প্রেরণা
সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন সুপ্ত।
তাঁর ভাষায়, আব্বা-আম্মা আজীবন তাঁর ওপর ভরসা রেখেছেন। দুই ভাইয়ের পড়াশোনার জন্য তাঁদের জীবনের একটি বড় সময় শহর থেকে শহরে ছুটে বেড়িয়েছেন।
ভাই-ভাবির আস্থা, আত্মীয়স্বজনের প্রত্যাশা এবং আশপাশের মানুষের নানা মন্তব্যও তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
তিনি মনে করেন, একজন বিসিএস প্রার্থীর অন্যতম বড় গুণ হলো—মানুষের কটূ কথায় ভেঙে না পড়ে সেটিকে নিজের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (BHBFC)-এ সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এসএম জুনাইদ কবির সুপ্ত।
গেজেট প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা আরও উন্নত করতে চান তিনি। এরপর পুলিশ ক্যাডারে যোগ দিয়ে সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের সেবা করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
প্রায় ছয় হাজার পরীক্ষা, একাধিক ব্যর্থতা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হতাশা, আত্মবিশ্বাস হারানোর কঠিন সময় এবং পরিবারের অগাধ বিশ্বাস—সবকিছুকে পেছনে ফেলে আজ সাফল্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুপ্ত।
তাঁর গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা একটাই—ব্যর্থতা মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মানুষ যদি ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আবার শুরু করতে পারে, তাহলে সেই ব্যর্থতাই একদিন সাফল্যের সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে ওঠে।
এসএম জুনাইদ কবির সুপ্ত সেই গল্পেরই একজন সফল নায়ক—যিনি প্রায় ছয় হাজার পরীক্ষার পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের পুলিশ ক্যাডারে জায়গা করে নিয়েছেন।