চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
তবে ফলাফলে সাফল্যের পাশাপাশি হতাশার চিত্রও দেখা গেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার অর্জন করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিএ-৫
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩,২৫৩ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬,১১৩ জন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯,৮১৪ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১,৪৭৮ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯,৩৯৮ জন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ২,৭৭৮ জন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,৮৩৬ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩,৬৩৯ জন।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫,৭০০ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬,৭১৬ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,৯৫১ জন।
এক নজরে এবারের এসএসসি ফলাফল
সার্বিক পাসের হার: ৬২.২৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী: ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থী: প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার জন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পাঠদান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান ও ফলাফলের আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।