বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দৈনিক সোনালী সময় সংবাদ প্রকাশের পর ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসক রাউজানে গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী সফল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন  লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের উদ্যোগে শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ১৩ জেলেসহ ফিশিং বোট উদ্ধার মাছের ক্যারেটে ২ লাখ ইয়াবা, পাচারকারী পালিয়েছে উখিয়ায় এক লাখ ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে বিজিবি  তাড়াশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড, জরিমানা সিংড়ায় জুয়ার আসর নিয়ে সংবাদ: প্রতিবাদ, পুনঃতথ্য যাচাইয়ের আহ্বান উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার- যুবক গ্রেপ্তার চারঘাটে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে মেয়র প্রার্থী আসাদুজ্জামান জুয়েলের মতবিনিময়

দৈনিক সোনালী সময় সংবাদ প্রকাশের পর ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসক

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : / ৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দৈনিক সোনালী সময় সংবাদ প্রকাশের পর ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসক

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ পেরোনো অসহায় ঝমেলা বেগম। দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর একাকীত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে লড়াই করে আসছিলেন তিনি। প্রায় এক দশক ধরে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি জীবন কাটছিল তাঁর। স্বামী-সন্তানহীন এই বৃদ্ধার অসহায় জীবনের চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে উঠে আসে। পরে বিষয়টি নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজেই ঝমেলা বেগমের বাড়িতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। সেখানে তিনি অসহায় বৃদ্ধার খোঁজখবর নেন, তাঁর জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ঝমেলা বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বসতঘরের জন্য দুই বান্ডিল টিন, চলাফেরার সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং এক ব্যাগ খাদ্যসামগ্রী সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়।
শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েই থেমে থাকেননি জেলা প্রশাসক। ঝমেলা বেগমের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তাঁর জন্য নতুন একটি ঘর নির্মাণ, বাড়ির ভিটায় মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ঘরবন্দি জীবন কাটানোর পর হুইলচেয়ার পেয়ে ঝমেলা বেগমের জীবনে যেন নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে। এতদিন যে বৃদ্ধা ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগই পেতেন না, এখন অন্তত হুইলচেয়ারে করে কিছুটা চলাফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে তাঁর দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অসহায়ত্বের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে প্রশাসন দাঁড়ালে তাদের জীবনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। ঝমেলা বেগমের পাশে জেলা প্রশাসকের সরাসরি দাঁড়ানোর ঘটনাটি মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অসুস্থতা ও নানা সংকটের মধ্যে থাকা একজন অসহায় বৃদ্ধার দুর্দশার খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঝমেলা বেগমের মতো সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। সম্মিলিত উদ্যোগেই অসহায় মানুষের জীবনে ফিরতে পারে স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং বেঁচে থাকার নতুন প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর