সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সম্পূর্ণ গীতা মুখস্থ করে কৃতি অর্জন করলেন গীতা সাধক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় সাতশো শ্লোক মুখস্থী রামুতে এসআরবি-১৫এর সফল অভিযানে মোটরসাইকেল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যান গাড়ি থেকে মাসে ২–৩ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাবের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যাচাইহীন তথ্য নয়, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান বিশ্ব নদী দিবসে বিশেষজ্ঞরা: ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলীকে রক্ষা করতে হবে’ টেকনাফে বিয়ের উদ্দেশ্যে পালানো রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা আনতেই বিজিবির হাতে তিনজন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন ব্রিসবেন (ব্যাব)-এর ৩৪তম এজিএম অনুষ্ঠিত। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের গণসংযোগে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আহ্বান অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকসহ তিন রোহিঙ্গা আটক

সম্পূর্ণ গীতা মুখস্থ করে কৃতি অর্জন করলেন গীতা সাধক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় সাতশো শ্লোক মুখস্থী

দৈনিক সোনালী সময় / ১৫৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জগদীশ চন্দ্র রায় , ইন্সট্রাক্টর (কম্পিউটার সাইন্স), পিটিআই , নীলফামারী।

নীলফামারী জেলা সদরে ১৯৮৭ সালে ১৪ মে গীতা সাধক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় গ্রাম দাউদে জন্মগহণ করেন। পিতা শ্রী কামিনী কান্ত রায়, মাতা শ্রী মতি শ্যামা দেবী রায় ডাকনাম সেনোবালা। তাঁর পিতামহ শ্রী বিষাদ চন্দ্র রায় একজন ধর্মপরায়ন মানুষ ছিলেন। পিতামহের কাছেই শ্রীমদভগবদ্‌গীতার হাতে খড়ি। শিক্ষাজীবনে পলাশরাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন, পলাশবাড়ী পরশমনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০৩ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন, নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। উচ্চতর শিক্ষার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন ২০০৫-২০০৬ সেশনে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে উর্ত্তীণ হন। স্নাতকে ভালো ফলাফলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বর্ণ পদকে ভূষিত করেন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের উপর থিসিস করার জন্য  তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল সরকারি চাকুরিতে ইন্সট্রাক্টর (কম্পিউটার সাইন্স) পদে যোগদান করেন। প্রথম কর্মস্থল প্রাইমারী টিটার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট , গাইবান্ধায় ছিলেন এবং বর্তমানে প্রাইমারী টিটার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, নীলফামারীতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর যাবত পিটিআইতে আইসিটি, বিজ্ঞান ও বাংলা শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।  তিনি সম্পূর্ণ গীতা আয়ত্ব ও মুখস্ত করার তাঁকে গীতা সাধক বলা হয়। স্কুল জীবন থেকে তাঁকে সবাই বিজ্ঞানী বলে ডাকেন। গীতা চর্চার জন্য ১৯ অক্টোবর ২০১৯ সালে “অমৃতবাণী গীতাসংঘ” বাড়াইপাড়া, নীলফামারী নামে একটি সংঘ তৈরি করেন। শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা মুখস্থ করার অনেক কারণ তিনি ব্যক্ত করেন। তাঁর ছাত্রজীবনে মনে ইচ্ছা ছিল শ্রীমদভগবদগীতার ব্যাখ্যা লেখা ও মুখস্থ করা। তিনি গত ০৯/০৩/২০১৫ খ্রি. তারিখ বিবাহ বন্ধনে আবব্ধ হন। বিবাহিত জীবনে দীর্ঘ সাত বছর অনেক চিকিৎকের চিকিৎসা গ্রহণ করেও সন্তান লাভ করতে পারেনি। স্বপ্নাদেশ পান গীতা প্রকাশ করলে তাহলেই সন্তান লাভ করতে পারবে এবং তোমার স্ত্রীও যেন গীতাচর্চা করে। তিনি ২০২২ সালে সাতশো শ্লোক আয়ত্ত্ব করেন এবং সকলে শোনান। প্রত্যক্ষদর্শীগণ শ্রী প্রতাপ চন্দ্র রায়,(প্রধান শিক্ষক),শ্রী ঠাকুরদাস রায় ( সহকারি শিক্ষক), শ্রী বাদল চন্দ্র দাস (কৃষিবিদ), শ্রী অসিত কুমার ধর (আইনজীবি)। তিনি তাঁর স্ত্রীকে গীতা শেখানো জন্য ২০২২ সালে একটি গীতা এপস তৈরি করেন। তারপর তারা হৃত্বিক রায় নামে একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন। এপ্লিকেশনটির লিংক

https://drive.google.com/file/d/1Yu0BIlKD8YVHwz-t4xyfjuxvI8_pkAAK/view

কাব্যতীর্থ শিক্ষক ও সুধী সংঘঠন, রাজারহাট, কুড়িগ্রামের পক্ষে শ্রী মিহির রায় ও গোবিন্দ্র রায় শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার সাতশো শ্লোক মুখস্থ ও আয়ত্ত্ব করার অনুপ্রেরণা প্রদান করেন এবং পুরষ্কার হিসেবে একলক্ষ টাকা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি যে সাতশো শ্লোক মুখস্থ অনেক লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

https://www.youtube.com/watch?v=3Afrj7M_6kQ

তিনি সমাজের মানুষকে ধর্ম সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। তিনি বেদপাঠ, চন্ডীপাঠ, গীতাপাঠ ও ধর্মসভায় বক্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তুলতে তিনি “শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান” ISBN Number: 978-984-97057-0-3, ২৪/০৬/২০২৪ এবং শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ রচনা করেন। আনন্দ পাবলিশার্স, আনন্দ পাবলিশার্স এর পক্ষে (তন্ময় চক্রবর্তী) ৩৮/৪ মান্নান মার্কেট, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ । ডিসেম্বর ২০২৬ বইটি  ছাপানো হবে।

www.anandapub-bd.com

সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি হলো পাঁচটি- জ্ঞান, প্রেম, ন্যায়, সমার্পন ও ধৈর্য্য। জ্ঞানের স্তর তিনটি -অহমিকা স্তর, বিনয়ী স্তর, অজ্ঞতার স্তর। শ্রীমদ্ভগবদগীতা শুধু ধর্মীয় শাস্ত্র হিসেবে অতিপ্রচীনকাল হতে পাঠ হয়ে আসছে । আসলে যে এটি একটি মহাবিজ্ঞান তা অনেকেই জানেনা। এই শাস্ত্রের মাধ্যমে শ্রীমদ্ভগবদগীতার অন্তনিহিত বিজ্ঞানকে সবার সামনে শুধু তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে।

শ্রীমদভগবদগীতায় সর্বমোট শ্লোক সংখ্যাঃ

বক্তা শ্লোক সংখ্যা
শ্রীকৃষ্ণের ৫৭৪
অর্জ্জুনের ৮৪
সঞ্জয়ের ৪১
ধৃতরাষ্ট্রের ০১
সর্বমোট  = ৭০০

গীতার শব্দ ও বর্ণের অবস্থান অনুযায়ী উচ্চারণ বিধিঃ

বাংলা সংস্কৃত শব্দে প্রয়োগ
ঙ নিয়/ন বাঙ্মনোভির্যৎ=বানমনোভিরিয়ৎ
ঞ ন/ণ  
য ইয়/ইঅ /য় যুক্তে =ইয়কতে, যোগ=ইয়োগ
স ছ স্বয়ং=ছোয়ায়ম 
শ / ষ শ  
ম ম্‌ অ কিমকুর্বত=কিম্‌ অকুর্বত
দ দ্‌ অ বিমৃশ্যৈতদশেষণ=বিমৃশ্যৈত অশেষণ ,মদনুগ্রহায়=মদ্‌ অনুগ্রহায়
ব-ফলা ওয়া / উয়া মহেষ্বাসা=মহেষোয়াছা
ং ন/ম সাংখ্য=ছানখিয়, পরমং=পরমম
ঃ র, হ , শ নমঃ= নমহ, হ ( শ্লোকের চরনের মাঝের থাকলে র আর শ্লোকের চরনের শেষে থাকলে হ)

মহাভারত (রাজশেখর বসু) মহামুনি বেদব্যাস গণেশকে বললেন, “আট হাজার আট শত এমন কূটশ্লোক আছে যার অর্থ আমি ব্যাস ও আমার পুত্র শুক বুঝে কিন্তু সঞ্জয় বুঝে কিনা?” “মহাভারতে একলক্ষ শ্লোক। উপাখ্যানভাগ বর্জন করে ব্যাস চব্বিশ হাজার শ্লোকে এক সঙ্ঘিতা রচনা করেন। ষাট লক্ষ শ্লোকে আর একটি মহাভারত সংহিতা রচনা করেছিলেন, তার ত্রিশ লক্ষ শ্লোক দেবলোকে, পনের লক্ষ পিতৃলোকে, চৌদ্দ লক্ষ গন্ধর্বলোকে এবং এক লক্ষ মনুষ্যলোকে প্রচলিত আছে। ব্যাস শিষ্য বৈশষ্পায়ন শেষোক্ত লক্ষ শ্লোক পাঠ করেছিলেন মহারাজ জন্মেজয়ের রাজসভায়”। সৌতি বা উগ্রশ্রবা বললেন।  লক্ষশ্লোকী মহাভারত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শাস্ত্র যা বিশ্বশান্তির অমূল্য সম্পদ। অষ্টাদশপর্ব মহাভারতের একলক্ষ শ্লোকের মধ্যে ষষ্ঠপর্ব ভীষ্মপর্বের ২৫ হতে  ৪২ অধ্যায় শ্রীমদভগবদগীতা ‘মধ্যমনি’ । মহাভারতকে পঞ্চমবেদ বলা হয়। কারণ বেদের মন্ত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগ করা হয়েছে মহাভারতের বিভিন্ন কর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে, গীতা হলো মহাভারতের মর্মকথা। গীতার মঙ্গলধ্যানে তাই বলা হয়েছে “উপনিষদসমূহ গাভী, শ্রীকৃষ্ণ ঐ গাভীর দোহনকর্তা, অর্জুন ঐ গাভীর দুগ্ধপানরত বৎস (বাছুর) । আর ঐ দুগ্ধ যুগ যুগ ধরে পান করে চলেছেন সুধিজন। বিশ্বের প্রধান প্রধান ভাষা ছাড়াও বহুভাষায় গীতা অমৃত বাণী অনুবাদিত হয়ে সর্বধারময়ীতে স্থান পেয়েছে। মহাভারত থেকে বিচ্ছিন্ন এবং স্বাধীন ‘উপনিষদরূপে’ ভগবদগীতার আবির্ভাব মূলত “শঙ্করাচার্যের কীর্তি (৭৮৮-৮২০ খ্রিস্টাব্দ)”।

অতএত ভগবদগীতাকে ‘গীতাশাস্ত্র’ রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শঙ্করাচার্য বিশেষজ্ঞগণ এই অভিমত দিয়েছেন। ‘এটমব্যোম’ আবিষ্কারক ওয়াজম্যান গীতার জ্ঞান লাভ করে জেনেছেন পরমাণুর শক্তি কত ! পারমানবিক শক্তি মানব কল্যানে কতটুকু হিতকর ও অহিতকর।  জগতের ক্রম-বৃদ্ধি-ধবংস, পুনরায় সৃষ্টি সবই দর্শনের জ্ঞান এবং বিজ্ঞান। গীতায় সৃষ্টির কথা, উপাদান, গুণ, কর্ম, কাল নির্ণয় সবই বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়। ভারতের অন্যতম বৈজ্ঞানিক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম নিত্য গীতা পাঠ করেন এবং তাঁর গুরু সুব্রামনিয়ামের কাছ থেকে গীতা পাঠে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি গীতার সূত্র ধরেই আত্মনির্ভরশীল ভারতীয় ডানা বিহীন মহাকাশযান নন্দী, অগ্নি, পৃথ্বী, ত্রিশুল, রোহিণী (১৯৬০-১৯৮৬) সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছেন। পরমব্রহ্ম প্রথমে বলেছিলেন জল হোক। প্রথমে জল সৃষ্টি হল। ভগবান এ জগতে চুরাশিলক্ষ যোনি মাধ্যমে জীব সৃষ্টি করেছেন। শেষে মানুষ সৃষ্টি করে একটি ‘ভূবন ভুলানো হাসি দিয়েছেন’। কারণ মানুষের মাঝেই তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হবে। সেজন্য তিনি আমাদেরকে সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন- সকলের জন্য সমান ভাবে দিয়েছেন, আলো, বাতাস, জল সবকিছু গ্রামেও যেমন, শহরেও তেমন ! পৃথিবীর সকল দেশে দিয়েছেন তাঁর বৈভব। জগতের সবকিছুই কৃষ্ণময়। গীতার পূর্ণ নাম “শ্রীমদভগবদগীতা”। শ্রী (ঐশ্চর্য) ভগবদ (ভগবান) কর্তৃক পরিচালিত গীত বা কথন। কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন, সঞ্জয়, ধৃর্তরাষ্ট্র সকলের প্রত্যক্ষ উক্তির মাধ্যমে গীতার কথোপকথন সম্পন্ন হয়েছে। গীতার প্রতিটি অধ্যায়ে বিজ্ঞান রয়েছে। বিজ্ঞান বলতে আমরা বুঝি বিশেষ জ্ঞান। গীতায় জ্ঞানের এমন কোন শাখা নেই, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোচনা করা হয়নি। গীতায় রয়েছে রাজনীতি, পৌরনীতি, নীতিশাস্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, অর্থশাস্ত্র, দর্শন, ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব বিদ্যা, নৃ-বিজ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতি, মনোবিজ্ঞান, যুক্তিবিজ্ঞান, গণিত , সমাজবিজ্ঞান, ভাষা ও ধ্বনি বিজ্ঞান, শিক্ষাদান কৌশল,  রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রাণি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান, শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যা, সামাজিক স্তর বিন্যাস বিদ্যা, কর্মসংস্থান ও কর্মবন্টন নীতি,  মহাকাশ বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান, খনিজ বিজ্ঞান, জীনতত্ত্ব, প্রজনন বিজ্ঞান, হিসাব ও ব্যবস্যা নীতি ,জ্যোতিষবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পুষ্টি বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চা বিদ্যা, গাইনি চিকিৎসা, ভ্রুণবিদ্যা, বংশগতি বিদ্যা, জৈব ও অজৈব বিদ্যা, আলোক বিজ্ঞান, চারু ও কারুকলা, শব্দবিজ্ঞান, সমূদ্রবিদ্যা, যুদ্ধবিদ্যা, গোয়েন্দা বিদ্যা, বিবর্তণ বিদ্যা, পররাষ্ট্র নীতি, কৃষি বিজ্ঞান, তেজস্ক্রিয়া বিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স , তড়িৎ বিদ্যা, পারমানবিক বিজ্ঞান, গার্হস্থ্য বিদ্যা, সন্ন্যাস বিদ্যা, পরিবেশ ও প্রকৃতি ইত্যাদি আরো অজানা অনেক জ্ঞান গীতায় মধ্যে নিহিত রয়েছে একমাত্র পরমেশ্বর ভগবানই জানেন এর পরিধি। শ্রী শঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য “গীতাধ্যায়নশীলস্য প্রাণায়মপরস্য চ। নৈব সন্তি হি পাপানি পূর্বজন্মকৃতানি চ।।২।। অনুবাদঃ কেউ যদি আন্তরিকভাবে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ভগবদ্ গীতা পাঠ করে, তা হলে ভগবানের করুণায় তার অতীতের সমস্ত পাককর্মের ফল তাকে প্রভাবিত করে না। ” গীতার মাহাত্ম্যটি ওনার জীবনে যথার্থ ও সত্য হয়ে প্রতিফলিত হলো। তাই গীতা সাধক প্রথমে এপ্লিকেশন আকারে শ্রীমদভগবদগীতা প্রকাশ করেন এবং ওনার স্ত্রী সেই এপ্লিকেশনের মাধ্যমে চর্চা শুরু করেন। ওনারা এক পুত্র সন্তান লাভ করেন। এপ্লিকেশনটিতে শ্রীমদভগবদ্‌গীতার প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায়ের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছিলেন। পৃথিবীর অনেক মনিষী গীতার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। তাই তিনি গীতার মৌলিকতার নিমিত্ত্বে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করলেন । গীতার প্রথম অধ্যায়ে দেখতে পাই “দৃষ্টা তু পাণ্ডবানীকং ব্যুঢ়ং দুর্য্যোধনস্তদা। আচার্য্যম্‌ উপসঙ্গম্য রাজা বচনম্‌ অব্রবীৎ।।২” মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র পত্নী মহারাণী গন্ধারী একশত একটি সন্তানের ভ্রুণ প্রসব করেছিলেন। পরবর্তীতে মহামুনি বেদব্যাসের শরণ নিলে মুনি মহোষধ ব্যবহার করে ক্ষিতিগর্ভে প্রতিটি ভ্রূণ পৃথক পৃথক করে রাখেন এবং ভ্রূণের নির্দিষ্ট বৃদ্ধি ও ওজন (ভর) হওয়ার পর ক্ষিতিগর্ভ থেকে বের করা হয়। একে একে একশত একটি সন্তান জন্মলাভ করেন। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান একে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (NICU) নামকরণ করেছেন। বর্তমানে অনেক শিশুকে প্রয়োজনীয় ওজন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাব খাওয়ানো পর্যন্ত নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়। গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে দেখতে পাই দেহের বিকাশ ও বৃদ্ধির আলোচলা। “ দেহিনো অস্মিন্‌ যথা দেহে কৌমারাং যৌবনং জরা। তথা দেহান্তর প্রাপ্তির ধীরস্তত্র ন মুহ্যতি ।। ১৩” এখানে দেহের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ আলোচনা করেছেন। যা উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও প্রাণী বিজ্ঞান প্রমাণসহ আলোচনা করেন। বর্তমানে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এখানে মানব জীবনের পরিবর্তণ চক্র আলোচনা করেছেন। এই পরিবর্তণের মাধ্যমে মানুষকে প্রতিটি স্তরে যে কর্ম নির্দিষ্ট রয়েছে সেই কর্ম করার নির্দেশ দিয়েছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। গীতার তৃতীয় অধ্যায়ে দেখতে পাই। “অন্নাদ্‌ ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাদ্‌ অন্ন সম্ভবঃ। যজ্ঞাদ্‌ ভবতি পর্জন্যো যজ্ঞঃ কর্ম সম্‌ উদ্ভবঃ ।। ১৪” আপনারা খেয়াল করবেন কোন কৌটো বা পাত্রে খাদ্যদ্রব্য সিলগালা করে রাখলে কিছুদিন পর দেখা যায় সেখানে পোকা-মাকড় দেখা যায়। সেখানে কিভাবে পোকা-মাকড় আসলো তা ভাববার বিষয়? জীবজন্তুর খাদ্য উৎপন্ন হয় বৃষ্টি থেকে। আমরা যদি প্রাকৃতিক পরিবেশের সুষ্ঠ ব্যবহার করি তাহলে সব ব্যবস্থা আপনা থেকেই ঠিক থাকবে। এবং তৃতীয় অধ্যায়  “ধূমেন্‌ আব্রিয়তে বহ্নির যথাদর্শো মলেন চ। যথা উল্বেন্‌ আবৃতো গর্ভস্তথা তেন ইদম্‌ আবৃতম্‌ ।। ৩৮” ভগবান এখানে কিছু প্রকৃতিক ঘটানা ঘটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ দিয়েছেন । ধোঁয়ার দ্বারা আগুনের শিখা আবৃত থাকে, কাঁচকে প্রতিফলক বানাতে গেলে এর উপর ধাতুর প্রলেপ দিতে হয় ইলেক্টোপ্লেটিং বা তড়িৎপ্রলেপন প্রক্রিয়ার মাধ্যম, এখানে আধ্যাত্মিকতা এই যে ঈশ্বরের অংশ আত্মারূপে জীবের হৃদয়ে অবস্থিত থাকে যা ঈশ্বরের প্রতিলিপি। সেরূপ দর্পনের সামনে দাঁড়ালে জীব তার নিজস্ব প্রতিলিপ দেখতে পায় আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে, গর্ভের সন্তানকে মায়ের জরায়ুই সুরক্ষিত রাখতে পারে। ভগবান এখানে গাইনি বা ধাত্রী চিকিৎসা বিদ্যার ভিত স্থাপন করেছেন এই শ্লোকের মাধ্যমে, সন্তান জরায়ুর মধ্যে সুরক্ষিত থাকে গীতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। জীবাত্মা বিভিন্ন মাত্রার কামের দ্বারা মোহাছন্ন হয়ে বাস করে।  গীতার প্রতিটি শ্লোকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল জ্ঞান লুকায়িত রয়েছে। আমরা সাধরণরা তা দেখতে পাই না। গীতা সাধক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় সাতশো শ্লোক মুখস্থী  একজন বিজ্ঞানের ছাত্র ও শিক্ষক প্রশিক্ষক হয়ে বিষয়গুলিকে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন। আশা করি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায়  ওনার এই বিশ্লেষণগুলি আপনাদের জাগতিক ও পারমার্থিক চিন্তা বিকাশে সহায়তা করতে এবং কুসংস্কারমুক্ত জীবনযাপন গঠনে সহায়তা করবে। প্রতিটি জীবনের দুটি উদ্দেশ্য থাকে একটি সুখভোগ করা যা মানুষের বিষয় প্রাপ্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে আর অন্যটি শান্তিলাভ করা যা মানুষের জ্ঞান প্রাপ্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে। সকলে শান্তি লাভ করুক এই প্রার্থনা করি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকটে। শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার শব্দ উচ্চারণ ও অর্থ উপলব্ধির জন্য শ্লোকগুলিকে সরল করা হয়েছে। গীতা সাধক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় সকল সনাতনীদের গর্ব ও অনুপ্রেরণা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর