বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চট্টগ্রাম-৯ আসনে জনরায় স্পষ্ট: ভবিষ্যৎ এমপি আবু সুফিয়ান অগ্রিম বিজয়ী অভিনন্দন: হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। ভোটের আগের রাতেই কলঙ্কিত ত্রয়োদশ নির্বাচন: জামায়াতের তৎপরতায় গণতন্ত্র চরম হুমকিতে ভোটের আগের রাতেই কলঙ্কিত ত্রয়োদশ নির্বাচন: জামায়াতের তৎপরতায় গণতন্ত্র চরম হুমকিতে; বদলগাছীতে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত বিএনপি সরকার গঠনে দেশের মানুষ নিরাপদ থাকবে : তানোরে মেজর শরীফ খুলনা-১ আসনে আমীর এজাজ খানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত, ‎ ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চুড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ শেরপুরের কৃতি সন্তান শাহিন মিয়া! মহাদেবপুর জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত চারঘাটে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জনরায় স্পষ্ট: ভবিষ্যৎ এমপি আবু সুফিয়ান

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ১৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

লেখক : ওসমান এহতেসাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে কোতোয়ালী চট্টগ্রাম-৯ আসনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সংসদীয় আসনে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্য বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জ, মেডিক্যাল কলেজ, নামী-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদালত, সিটি করপোরেশন, সিডিএ প্রধান কার্যালয়, পুলিশ, ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশাসনিক অফিস। তাই চট্টগ্রামে সব দলের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ এই আসনটি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন।

অতীতে এই সংসদীয় আসনে বিজয়ী নির্ধারণ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন, প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইই ছিল নিয়মিত চিত্র। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই প্রচলিত বাস্তবতাকে পাল্টে দিয়েছে। জনাব আবু সুফিয়ানের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার সামনে এই আসনে তাঁর কোনো বিকল্প প্রতিদ্বন্দ্বী দৃশ্যমান নয়। প্রতিটি দল, প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণা, গণসংযোগ ও কৌশল বিশ্লেষণ করে এক কথায় বলা যায়—জনতার রায় এখনই স্পষ্ট; আগামীর বিজয়ী এমপি আবু সুফিয়ান।

আবু সুফিয়ান হচ্ছেন সেই পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন কেবলমাত্র আন্দোলন, সংগঠন ও তৃণমূলের মানুষের সান্নিধ্যের মাধ্যমে। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, বিএনপির বিভিন্ন সংকটকালে দলের পুনর্গঠনে তাঁর অবদান এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের পাশে তাঁর অবিচল উপস্থিতিই তাঁকে আজ চট্টগ্রাম-৯ আসনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীতে পরিণত করেছে।

আপনারা অনেকেই আমার সমালোচনা করে বলবেন, আমি হয়তো ২০২০ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে হেরে যাওয়া জনাব আবু সুফিয়ানের পক্ষে একতরফা সাফাই গাইছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—একজন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি কেবল নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। সে নির্বাচনে আবু সুফিয়ানের পরাজয়কে অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি এমন মন্তব্যের সব সময় বিরোধিতা করে এসেছি। ওই নির্বাচনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি ‘ভোটবিহীন পরাজয়’, যেখানে কাগজে-কলমে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। সাদা কাগজে কলমের কালিতে লেখা সেই পরাজয়কে রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সুযোগ কখনোই ছিল না।

তবে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক। আদালতের রায়ে তাঁর প্রার্থিতা বৈধতা ফিরে পাওয়ায় তিনি বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি সুশিক্ষিত, মানবিক চিকিৎসক, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং একটি সুসংগঠিত দলের প্রতিনিধি- এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এ কথা সত্য, তিনি পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী মাঠে থাকলে এই আসনে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে।

সংগঠন ও ভোটব্যাংকের দিক থেকে তিনি আবু সুফিয়ানের জন্য একটি বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাকলিয়ার অধিকাংশ জনগণ বছরের পর বছর ধরে ধানের শীষ প্রতীকের অন্ধ ভক্ত। এই আসনে প্রার্থী কে দাঁড়িয়েছেন, তাতে তাদের কোন কিছু যায় আসে না- ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হলেই হল। তাই এই দিক বিবেচনায় আবু সুফিয়ানের জয়ের সম্ভাবনাই তুলনামূলকভাবে বেশি- ফলাফল হতে পারে ১৯/২০।
অন্যদিকে, যদি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার সানজীদ রশিদ চৌধুরী পূর্বের ন্যায় এই আসনে প্রার্থী হতেন, তাহলে নিঃসন্দেহে একটি জটিল ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তৈরি হতো। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, ব্যক্তিগত জনসেবা এবং সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোট তাঁর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী সমীকরণ কিছুটা জটিল হতো আবু সুফিয়ানের জন্য। এখন আর সেই সুযোগ নেই।

এবার আসি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই আলোচনার বাইরে থাকবে; কারণ তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তি এখনও সীমিত। এ ছাড়া অন্য সব দলীয় প্রার্থী এখনও তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছেন; তাঁদের প্রচারণা, গণসংযোগ এবং ভোটার সংস্পর্শ এখনো পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি। বিএনপি, জামায়াতের মতো সুসংগঠিত ও সারাদেশে বিস্তৃত দল না থাকায় তাঁদের পক্ষে সার্বক্ষণিক মাঠে থাকা এবং জনমতকে আস্থায় নেওয়া কঠিন।

ফলত, নির্বাচনী মাঠে তাঁদের বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার চরিত্রও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই আবু সুফিয়ান নিরবচ্ছিন্ন গণসংযোগ চালিয়েছেন। কোতোয়ালী-বাকলিয়ার প্রতিটি অলিগলিতে তাঁর উপস্থিতি, মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দৃষ্টান্ত—এসবই তাঁকে শুধু একজন প্রার্থী নয়, একজন ‘জনদরদি’ নেতায় পরিণত করেছে।
এতক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি চট্টগ্রাম-৯ আসনের নির্বাচনী বিশ্লেষণ; এবার আবু সুফিয়ানের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা যাক। আবু সুফিয়ানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এক পর্যায়ে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন ও রাজপথের কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে দ্রুত পরিচিত করে তোলে।

ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মূল ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাঁকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সময় তিনি দল পুনর্গঠন, নিষ্ক্রিয় ইউনিট সচল করা এবং কেন্দ্র ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক জীবনে আবু সুফিয়ানকে একাধিকবার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকট ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগে এক সময় তাঁর দায়িত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে তা পুনর্বহাল হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সময়টি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম পরীক্ষার অধ্যায়, যেখানে তিনি ধৈর্য ও সংগঠনের প্রতি আনুগত্যের পরিচয় দেন।
আবু সুফিয়ানের রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার উঠে আসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনমুখী করার দাবি। কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

ব্যক্তিজীবনে আবু সুফিয়ান তুলনামূলকভাবে প্রচারবিমুখ হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে একজন দৃঢ় ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
জনাব আবু সুফিয়ান, আপনার এই বিজয় শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং সেই সব সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, যারা দুর্দিনে আপনাকে সঙ্গ দিয়েছেন। সাংবাদিক মহল থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আপনার পক্ষে ছিলেন- এই সমর্থন যেন আপনি কখনও ভুলে না যান।
আপনাকে আবেদন, আপনি যেন নিপীড়িত, গরিব ও অসহায় মানুষের প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হন—ধনী ও প্রভাবশালীদের এমপি নন। আপনার মধ্যে যে সাদামাটা জীবনযাপন, জনসেবার প্রতি নিবেদন ও নীতির স্থিরতা আছে, তা যেন অটুট থাকে।

এই গুণাবলি যদি অব্যাহত থাকে, তবে শুধু এমপি নয়—ভবিষ্যতে আপনি মন্ত্রীও হবেন। মহান আল্লাহ যদি আপনাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তবে আপনাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক—এই দাবি সরকারের কাছে আমরা জানাব।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা (চসাস) osmangonistudent5@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর