তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি :
ঐতিহ্যবাহী রংপুর কারমাইকেল কলেজের বিতর্ক পরিষদের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বরণ করে নিতে আয়োজিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত ‘রম্য বিতর্ক’। ‘বৈশাখে আমিই সেরা’—ব্যতিক্রমী ও হাস্যরসাত্মক এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতার্কিকদের যুক্তি আর পাল্টা যুক্তির লড়াইয়ে মেতে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। নববর্ষের সকালে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিতার্কিকরা ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অবতীর্ণ হয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। সেখানে ‘টিকটকার’ হিসেবে রেজওয়ানা স্বর্ণ, ‘কাজের বেটি’ চরিত্রে আলিমাতুন নূর সিথী, ‘প্রেমিকা’ রূপে ফাল্গুনী রায় পূজা, ‘ঝগড়ুটে বউ’ হিসেবে উম্মে জান্নাত মিশু এবং ‘ঘটক’ চরিত্রে আবু দারদা নাঈম তাদের অনবদ্য বাকপটুতা ও হাস্যরসের মাধ্যমে প্রমাণের চেষ্টা করেন যে, বৈশাখের আমেজে তারাই শ্রেষ্ঠ। বিতার্কিকদের মেধা ও অভিনয়ের মিশেলে পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তরুণ বিতার্কিকদের উৎসাহিত করেন কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও বিতর্ক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: আবুল হোসেন মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ ও বিতর্ক পরিষদের সহ-সভাপতি প্রফেসর মো: হাবিবুর রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিতর্ক পরিষদের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক প্রফেসর দিলীপ কুমার রায় এবং বাংলা বিভাগের ভূতপূর্ব অধ্যাপক ও পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক প্রফেসর মো: শাহ আলম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিতর্ক পরিষদের বর্তমান ও সাবেক সদস্য জনাব মো: রেজাউল ইসলাম বিপ্লব, মো: আলমগীর হোসেন আলো এবং সাবেক মুখ্য-সমন্বয়ক মাফরুজা মেহনাজ মৌরিন। পুরো আয়োজনটি সুচারুভাবে তদারকি করেন পরিষদের মুখ্য-সমন্বয়ক বহ্নিশিখা রায় পূজা এবং সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল ওয়াজেদ সরকার। শুভ নববর্ষ উদযাপন কমিটি-১৪৩৩-এর আহ্বায়ক রাহুল দাস আয়োজনের সার্বিক সাফল্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে, নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আগামীতে সুস্থ ধারার বিতর্ক চর্চাকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। পহেলা বৈশাখের এই আনন্দঘন পরিবেশে বিতার্কিকদের এমন সৃষ্টিশীল উপস্থাপনা উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।