বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাবিতে নতুন দুই অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন, জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও গতিশীল করার উদ্যোগ, আইসিইউ চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই তাহিরপুর সীমান্তে ভারতের কয়লার গুহায় মাটি চাপায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু। বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপি পেশার স্বীকৃতি ও রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন বাস্তবায়নের দাবি ঝিনাইগাতীতে বাফার গোডাউন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক রাউজানে বেপরোয়া চাঁদের গাড়ির এক্সিডেন্ট থেকে অল্পের জন্যে বেঁচে গেল মাদ্রাসা শিক্ষক র‌্যাব-৭ অধিনায়কের সঙ্গে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ সিংড়ায় ছাত্রদল নেতা কাজলের সঙ্গে একাধিক নারীর ছবি ভাইরাল, ‘এআইয়ের কারসাজি’ দাবি কাজলের বাকৃবির নবনিযুক্ত উপাচার্যকে বাংলাদেশ ফিসারিজ এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও কৃষিবিদ আনোয়ার পারভেজের শুভেচ্ছা বিএনপি নেতা রহমতুল্লাহ অসুস্থ, দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা সুনামগঞ্জে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশায় নতুন নম্বর প্লেট প্রদানের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মালিক শ্রমিক সমবায় পরিষদ

অদক্ষতা লুকানো: নীরব আত্মবিনাশের এক বিপজ্জনক রূপ—-মোঃ সেলিম উদ্দীন

তরিকুল ইসলাম, সহকারী বার্তা সম্পাদক / ১৪৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ সেলিম উদ্দীন

মানুষ জন্মগতভাবে সবকিছু জানে না, এটাই স্বাভাবিক। অদক্ষতা তাই কোনো অপরাধ নয়; বরং শেখার প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য ধাপ। কিন্তু যখন কেউ নিজের অদক্ষতাকে আড়াল করার চেষ্টা করে, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতাই নয়, বরং এক গভীরতর সমস্যার রূপ নেয়। অদক্ষতা লুকিয়ে রাখা এক ধরনের নীরব আত্মবিনাশ, যা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

প্রথমত, অদক্ষতা স্বীকার না করার মানসিকতা শেখার পথকে বন্ধ করে দেয়। যে ব্যক্তি নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করতে পারে না, সে কখনোই উন্নতির সুযোগ গ্রহণ করতে পারে না। ফলে তার জ্ঞান ও দক্ষতার পরিসর স্থবির হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থবিরতা আত্মবিশ্বাসের অভাব, ভীতি ও কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। একসময় সে নিজেই নিজের সক্ষমতার প্রতি সন্দিহান হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে অদক্ষতা লুকানো আরও বিপজ্জনক। একটি দল বা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেকের কাজ একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে যদি কেউ নিজের সীমাবদ্ধতা গোপন করে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়ে পুরো দলের ওপর। এতে উৎপাদনশীলতা কমে, ভুলের পরিমাণ বাড়ে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। এমন ব্যক্তি ধীরে ধীরে দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যার পরিণতিতে তাকে একপ্রকার “কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী” হিসেবে দেখা শুরু হয়।

তৃতীয়ত, অদক্ষতা লুকানোর পেছনে থাকে এক ধরনের অহংবোধ ও সামাজিক ভয়। অনেকে মনে করেন, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করলে সম্মান কমে যাবে বা অন্যরা ছোট করে দেখবে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। যে ব্যক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং শেখার আগ্রহ দেখায়, তাকে সহকর্মীরা বরং বেশি সম্মান করে। কারণ, স্বচ্ছতা ও শেখার মানসিকতাই একজন পেশাদার মানুষের প্রকৃত শক্তি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক, দুই স্তরেই উদ্যোগ। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের উচিত নিজের দুর্বলতাকে খোলামেলাভাবে স্বীকার করা এবং তা উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট হওয়া। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে দেখা হবে, শাস্তির কারণ হিসেবে নয়। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সহায়ক নেতৃত্ব, এই তিনটি উপাদান কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেষকথা হলো, অদক্ষতা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; লজ্জার বিষয় হলো তা আড়াল করা। কারণ, অদক্ষতা স্বীকার করলে উন্নতির পথ খোলে, কিন্তু তা লুকিয়ে রাখলে ব্যক্তি নিজেই নিজের অগ্রগতির পথে দেয়াল তুলে দেয়। তাই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে এখনই সময়—অদক্ষতাকে গোপন না করে, সাহসের সঙ্গে তা স্বীকার করে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর