বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দক্ষিণ নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন বিপ্লব হোসেন বাপ্পি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কোন্নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ারারস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মধ্যাহ্নভোজ ও ভর্তা পার্টি’ স্বপ্ন থেকে সাফল্যে:ভালোবাসা, ত্যাগ আর অধ্যবসায়ে ৪৭ তম বিসিএস একই ক্যাডারে স্বামী- স্ত্রী অনন্য অর্জন কৃষকের ছেলের স্বপ্নপূরণ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ৪৭তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত শ্রীবরদীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ মাদারীপুরের শিবচরের কৃতি সন্তান ইমরান ৪৭ তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান সৌরভের স্বপ্নজয়-৪৬ তম বিসিএস কৃষি ক্যাডারে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত সিলেটের প্রিয়ন্তী সুনামগঞ্জ শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ট্যালেন্ট ফুল বৃত্তি অর্জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সকে জেলা প্রশাসন, শেরপুরের বিদায় সংবর্ধনা

অদক্ষতা লুকানো: নীরব আত্মবিনাশের এক বিপজ্জনক রূপ—-মোঃ সেলিম উদ্দীন

তরিকুল ইসলাম, সহকারী বার্তা সম্পাদক / ১১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ সেলিম উদ্দীন

মানুষ জন্মগতভাবে সবকিছু জানে না, এটাই স্বাভাবিক। অদক্ষতা তাই কোনো অপরাধ নয়; বরং শেখার প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য ধাপ। কিন্তু যখন কেউ নিজের অদক্ষতাকে আড়াল করার চেষ্টা করে, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতাই নয়, বরং এক গভীরতর সমস্যার রূপ নেয়। অদক্ষতা লুকিয়ে রাখা এক ধরনের নীরব আত্মবিনাশ, যা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

প্রথমত, অদক্ষতা স্বীকার না করার মানসিকতা শেখার পথকে বন্ধ করে দেয়। যে ব্যক্তি নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করতে পারে না, সে কখনোই উন্নতির সুযোগ গ্রহণ করতে পারে না। ফলে তার জ্ঞান ও দক্ষতার পরিসর স্থবির হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থবিরতা আত্মবিশ্বাসের অভাব, ভীতি ও কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। একসময় সে নিজেই নিজের সক্ষমতার প্রতি সন্দিহান হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে অদক্ষতা লুকানো আরও বিপজ্জনক। একটি দল বা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেকের কাজ একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে যদি কেউ নিজের সীমাবদ্ধতা গোপন করে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়ে পুরো দলের ওপর। এতে উৎপাদনশীলতা কমে, ভুলের পরিমাণ বাড়ে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। এমন ব্যক্তি ধীরে ধীরে দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যার পরিণতিতে তাকে একপ্রকার “কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী” হিসেবে দেখা শুরু হয়।

তৃতীয়ত, অদক্ষতা লুকানোর পেছনে থাকে এক ধরনের অহংবোধ ও সামাজিক ভয়। অনেকে মনে করেন, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করলে সম্মান কমে যাবে বা অন্যরা ছোট করে দেখবে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। যে ব্যক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং শেখার আগ্রহ দেখায়, তাকে সহকর্মীরা বরং বেশি সম্মান করে। কারণ, স্বচ্ছতা ও শেখার মানসিকতাই একজন পেশাদার মানুষের প্রকৃত শক্তি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক, দুই স্তরেই উদ্যোগ। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের উচিত নিজের দুর্বলতাকে খোলামেলাভাবে স্বীকার করা এবং তা উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট হওয়া। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে দেখা হবে, শাস্তির কারণ হিসেবে নয়। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সহায়ক নেতৃত্ব, এই তিনটি উপাদান কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেষকথা হলো, অদক্ষতা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; লজ্জার বিষয় হলো তা আড়াল করা। কারণ, অদক্ষতা স্বীকার করলে উন্নতির পথ খোলে, কিন্তু তা লুকিয়ে রাখলে ব্যক্তি নিজেই নিজের অগ্রগতির পথে দেয়াল তুলে দেয়। তাই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে এখনই সময়—অদক্ষতাকে গোপন না করে, সাহসের সঙ্গে তা স্বীকার করে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর