মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আজকের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কি আগামী দিনের স্বৈরতন্ত্রের পথ তৈরি করছে? জাদিমুড়ায় রাস্তা দখল করে দোকান, রোহিঙ্গা যুবকের কারাদণ্ড উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির অভিযানে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতা জহির ফকির হত্যা মামলার পলাতক আসামি কবির হোসেন কক্সবাজারে গ্রেফতার ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তৎপর কোস্ট গার্ড উখিয়ায় পাহাড় কাটার সময় মাটিভর্তি ডাম্পারসহ আটক ১ টেকনাফে ১০৫ সদস্যের যৌথ অভিযান, মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার: চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচ এম ছামিউল হক (রাজু) সেন্টমার্টিনে ২৩২ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল কোস্ট গার্ড রাজশাহী শিশু হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষ ২০২৩ সালে , তবুও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার পূর্ব আকাশ কুড়ি যুব সংঘ বনাম নব উন্নয়ন যুব ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত। শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয়নি পুলিশ: রাশেদ খান ​প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শেষ বিদায়: বৃটেন কমিউনিটির শোক টেকনাফে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির সভা সাতকানিয়ায় হত্যা ও অস্ত্রসহ ৯ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন? যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় এসএসএস-এর ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত গর্জনীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী র আহ্বায়ক কমিটি গঠিত সাংবাদিক বেলাল উদ্দীন আহ্বায়ক মাওলানা মাছুমুর রশিদ সচিব নকলায় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেন মিন্টু
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক   বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সময় পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654

আজকের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কি আগামী দিনের স্বৈরতন্ত্রের পথ তৈরি করছে?

দৈনিক সোনালী সময় / ১৩ বার দেখা হয়েছে
নিউজটি প্রকাশ হয়েছে সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

আজকের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কি আগামী দিনের স্বৈরতন্ত্রের পথ তৈরি করছে?

ড. মো: জয়নুল আবেদীন রোজ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং জাতির বিবেকের কাছে কিছু প্রশ্ন

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আজ জাতির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে—একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করে রাখা কি গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ? নাকি এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট, প্রতিহিংসা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার পথ তৈরি করতে পারে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো ক্যালেন্ডারভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারণ না করে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার শর্তে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সরকার এবং সংসদের বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে? দেশের জনগণই বা বিষয়টিকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন? একটি রাজনৈতিক দলের লাখো কোটি নেতা-কর্মী ও সমর্থকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কতটা অর্থবহ হতে পারে?

আমি বিষয়টিকে শুধু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখতে চাই না। বরং এটিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে বিবেচনা করছি।

আজ যে সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে, আগামী দিনে সেই একই সিদ্ধান্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে না—এর নিশ্চয়তা কে দেবে?

ধরা যাক, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এল। তখন যদি তারা বর্তমান রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নজির সামনে রেখে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তার বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে?

আরও স্পষ্ট করে বললে, যদি ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এসে বাকশালের আদলে একদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় এবং ‘এক নেতা, এক দেশ—শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি করার চেষ্টা করে, তাহলে কি সেটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বলে মনে হবে?

আমি এমন কোনো ব্যবস্থাকে সমর্থন করছি না। বরং সম্ভাব্য বিপদের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছি।

এমনকি ভবিষ্যতের কোনো সরকার যদি সংবিধান পরিবর্তন করে রাজতন্ত্রের মতো অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তখন আজকের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর নজির সামনে আসতে পারে। যদিও এ ধরনের পরিবর্তন আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তবু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে তৈরি করা দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

আজ যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন, আগামীকাল সেই একই ব্যবস্থা নিজেদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হলে তাঁরা কোন যুক্তিতে প্রতিবাদ করবেন?

এটি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়; এটি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অতীতের ভুলের সংশোধন কি আরেকটি ভুলের মাধ্যমে হতে পারে?

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন—সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অধিকার, আন্দোলনের নামে সংঘটিত অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার—এই তিনটি বিষয়কে পৃথকভাবে বিচার করতে হবে।

যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক কর্মী—যিনিই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।

কিন্তু কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় কি একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের ওপর সমানভাবে চাপিয়ে দেওয়া যায়?

যাঁরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, শুধু একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাস করেন—তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল, যার ইতিহাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রস্তুতি এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে এই দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

তবে ঐতিহাসিক অবদান কোনো রাজনৈতিক দলকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। একইভাবে কোনো দলের শাসনামলের অপরাধের অভিযোগ তার সমগ্র ইতিহাস, সব নেতা-কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকের অধিকার অস্বীকার করার স্বয়ংক্রিয় যুক্তি হতে পারে না।

বিচার হওয়া উচিত অপরাধের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

আজকের ক্ষমতাসীন সরকার এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আমার প্রশ্ন—আপনারা কি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে এই ধরনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আপনাদের নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না?

রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, আগামীকাল তাঁরা বিরোধী দলে থাকতে পারেন। আবার আজ যাঁরা বিরোধী দলে আছেন, তাঁরাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারেন।

কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্তের পরিণতি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে হাজার হাজার পরিবার, লাখ লাখ নেতা-কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকের জীবনের ওপর।

শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে দেশত্যাগ করতে পারেন, বিদেশে আশ্রয় নিতে পারেন কিংবা নিজেদের জীবন নতুনভাবে সাজাতে পারেন। কিন্তু সাধারণ নেতা-কর্মীদের অধিকাংশের সেই সুযোগ নেই। তাঁদের পরিবার, জীবিকা, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ এই দেশের মাটির সঙ্গেই জড়িত।

তাঁদের অপরাধ কী? তাঁরা কি শুধু একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেছেন? একটি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করা কি আজীবনের অপরাধ হতে পারে?

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের সংগঠন গঠন, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার স্বীকার করেছে। অবশ্যই এসব অধিকার আইনসঙ্গত ও যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের অধীন। কিন্তু সেই বিধিনিষেধ হতে হবে ন্যায়সংগত, প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক এবং যথাযথ বিচারিক পর্যালোচনার উপযোগী।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তাই রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিচার চলতে পারে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে; কিন্তু নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা, পরিধি এবং তা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত।

এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। গণতন্ত্রের শক্তি শুধু নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার ও জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করার মধ্যেও গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।

আজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, আগামীকাল একই ধরনের ব্যবস্থা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রয়োগের চেষ্টা হলে আমরা কি সেটিকে একইভাবে গ্রহণ করব?

যদি না করি, তাহলে আজকের সিদ্ধান্তগুলোকেও একই নৈতিক ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে বিচার করতে হবে।

অতীতের রাজনৈতিক অন্যায়কে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অন্যায়ের বৈধতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা কোনো রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে সেই নীতি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

আমি মনে করি, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রভাব নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারেরও উচিত বিষয়টিকে শুধু পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে নিজস্ব সাংবিধানিক, আইনগত ও রাজনৈতিক দায়িত্বের আলোকে বিবেচনা করা।

প্রয়োজনে স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আইনগত ভিত্তি, বাস্তব প্রয়োজনীয়তা এবং সাধারণ নেতা-কর্মীদের ওপর এর প্রভাব পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিচার অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিতে হবে।

ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ—এই দুটিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানানো উচিত নয়।

পরিশেষে বর্তমান সরকার, বিরোধী দল এবং দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আমার আহ্বান—শুধু আজকের ক্ষমতা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার কথাও ভাবুন।

বাংলাদেশ কোনো একক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এই দেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত এবং অন্যান্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নাগরিকসহ সব বাংলাদেশির।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে, সমালোচনা থাকবে এবং আইনের শাসনও থাকতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে স্থায়ীভাবে নিশ্চিহ্ন করার চিন্তা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ হতে পারে না।

আজ অন্যের জন্য যে রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, আগামীকাল সেই বন্ধ পথের সামনে নিজেদেরও দাঁড়াতে হতে পারে।

তাই বর্তমান সরকারের প্রতি আমার আহ্বান—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনতিবিলম্বে আইনগত ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করুন। অপরাধের বিচার নিশ্চিত করুন, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখবেন না।

মনে রাখতে হবে, প্রতিহিংসা কখনো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না; ন্যায়বিচার, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক শ্রদ্ধাবোধই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে।

আমি বাংলাদেশের জনগণ, বর্তমান সরকার এবং সংসদের বিরোধী দলের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম—

আজ যে রাজনৈতিক নজির সৃষ্টি হচ্ছে, আগামীকাল তার ভয়াবহ পরিণতির দায় কে নেবে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ