বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নিশীথপুরের ছায়ামন্ত্রী দৈনিক সোনালী সময় সংবাদ প্রকাশের পর ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসক রাউজানে গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী সফল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন  লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের উদ্যোগে শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ১৩ জেলেসহ ফিশিং বোট উদ্ধার মাছের ক্যারেটে ২ লাখ ইয়াবা, পাচারকারী পালিয়েছে উখিয়ায় এক লাখ ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে বিজিবি  তাড়াশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড, জরিমানা সিংড়ায় জুয়ার আসর নিয়ে সংবাদ: প্রতিবাদ, পুনঃতথ্য যাচাইয়ের আহ্বান উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার- যুবক গ্রেপ্তার

নিশীথপুরের ছায়ামন্ত্রী

শাহ লাভলী রহমান / ১৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাহ লাভলী রহমান: শহরটির নাম নিশীথপুর। দিনের বেলায় খুব স্বাভাবিক দেখাত। রাস্তায় মানুষ হাঁটত, দোকান খুলত, স্কুলে ঘণ্টা বাজত, সংসদ ভবনের সামনে পতাকা উড়ত। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই শহরের বাতাসে কেমন একটা অদৃশ্য শব্দ ভেসে বেড়াত যেন দূরে কোথাও তালা বন্ধ হওয়ার শব্দ। আর শহরের বৃদ্ধরা ফিসফিস করে বলত-যে মানুষের ছায়া দেখা যায় না, তার ভয়টাই সবচেয়ে বেশি। নিশীথপুরের সংসদে তখন অদ্ভুত এক রীতি চালু হয়েছিল যে সংসদে অনেক মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতেন একজন। নিশীথপুর শহরটির নাম শুনলে প্রথমে মনে হতো এ নিশ্চয়ই এমন একটি শহর, যেখানে রাত খুব সুন্দর। কিন্তু যারা সেখানে বাস করত, তারা জানত নিশীথপুরে রাত সুন্দর নয়; রাত শুধু দীর্ঘ। সূর্য ডোবার পর শহরের দোকানগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যেত। মানুষ দরজায় তালা লাগাত। জানালার পর্দা টেনে দিত। তারপরও কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারত না। কারণ নিশীথপুরে তখন একটি নতুন প্রবাদ চালু হয়েছিল-তালা দরজাকে রক্ষা করে, কিন্তু ভয়কে নয়। তিনি ছিলেন নিশীথপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে মানুষ তাঁকে শুধু মন্ত্রী বলত না। নিশীথপুরের এই মন্ত্রির নাম কেউ ঠিকমতো জানত না। সরকারি কাগজে তাঁর নাম লেখা থাকত-নিশাল বাবু। কিন্তু মানুষ তাঁকে অন্য নামে ডাকত।

কেউ ডাকত, ছায়ামন্ত্রী। 

কেউ ডাকত, নীরব প্রহরী।

কেউ আবার ডাকত-একলা সরকার।

আর কেউ কেউ ডাকত-নিশীথপুরের সব ছায়ার মালিক।

নিশাল বাবুর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর আত্মবিশ্বাস। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তাঁর আত্মবিশ্বাসের কোন সীমা ছিল না। তিনি মনে করতেন, দেশের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব, রাজপথের যানবাহন থেকে বাজারের দোকান, মানুষের ঘুম থেকে মানুষের জাগরণ সবকিছু সম্পর্কে তাঁর ধারণা আছে। এমনকি একদিন সংসদে এক সদস্য মজা করে বলেছিলেন, 

মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি আগামী বাজেটও নিজে লিখবেন?

নিশাল বাবু হেসে বললেন, প্রয়োজনে সেটাও করতে পারি।

সংসদে হাসির রোল উঠল। কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি নিশাল বাবু মজা করছেন না। তিনি সত্যিই বিশ্বাস করতেন, নিশীথপুরে তিনি ছাড়া আর কেউ ঠিকমতো কিছু বোঝেন না।

শিক্ষামন্ত্রী বসে আছেন, অর্থমন্ত্রী বসে আছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বসে আছেন, কৃষিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী সবাই তাঁদের নিজ নিজ আসনে। কিন্তু প্রশ্ন উঠলেই নিশাল বাবু উঠে দাঁড়ান।

কৃষি নিয়ে প্রশ্ন? -নিশাল বাবু উত্তর দেন।

অর্থনীতি নিয়ে প্রশ্ন? -নিশাল বাবু উত্তর দেন।

শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন? -আবার নিশাল বাবু।

একদিন এক তরুণ সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে বললেন, মাননীয় স্পিকার, আমার প্রশ্নটি কৃষিমন্ত্রীর কাছে।

নিশাল বাবু সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোফোনের দিকে ঝুঁকে বললেন, প্রশ্নটি আমি বুঝেছি।

কৃষিমন্ত্রী চুপ করে রইলেন।

তরুণ সংসদ সদস্যও চুপ করে গেলেন। গ্যালারিতে বসা এক বৃদ্ধ সাংবাদিক তাঁর নোটবুকে লিখলেন- “যে সংসদে প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর একজনই দেন, সেখানে একদিন হয়তো প্রশ্ন করার প্রয়োজনও থাকবে না।” তারপর তিনি একটু থেমে লিখলেন- “কারণ উত্তর যদি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, প্রশ্ন তখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা।”

নিশাল বাবুর ধারণা ছিল, সংসদের অধিকাংশ মানুষ অযোগ্য। তাঁর ভাষায়-দেশ চালাতে মেধা লাগে। আর নিজের মেধা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল-আমি আছি বলেই তো সব চলছে।

শহরের লোকেরা অবশ্য অন্য কথা বলত। তারা বলত-যদি একজন মানুষই সব চালান, তবে ব্যর্থতার দায়টিও কি তাঁর একার নয়?

এই প্রশ্নটি নিশাল বাবুর ভালো লাগত না। তাই তিনি প্রশ্নটি শুনতেন না। অথবা শুনেও এমনভাবে হাসতেন, যেন প্রশ্নটি আসলে কোন প্রশ্নই নয়।

এদিকে নিশীথপুরের রাস্তায় অন্য গল্প লেখা হচ্ছিল। কোথাও খুনের খবর, কোথাও নিখোঁজ মানুষের স্বজনের কান্না, কোথাও ঘুষের অভিযোগ, কোথাও চাঁদাবাজির ভয়, কোথাও সন্ত্রাসীদের দাপট, কোথাও দোকানপাট দখল, কোথাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, কোথাও সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম, কোথাও নারীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের সংবাদ। প্রতিটি ঘটনার পর মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকত।

তারপর নিশাল বাবু আসতেন। সাজানো টেবিল, সামনে মাইক্রোফোন, পেছনে জাতীয় পতাকা, মুখে সেই পরিচিত মুচকি হাসি। তিনি বলতেন-পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।

মানুষ তখন নিজেদের ঘরে বসে একে অপরের দিকে তাকাত। কারও মুখে কথা থাকত না। কারণ তারা জানত- পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তবে ভয়টা এত বড় হলো কীভাবে?

এক রাতে শহরের এক বৃদ্ধ দোকানদার তাঁর ভাঙা দোকানের সামনে বসে ছিলেন। দোকানের শাটার ভাঙা, কাঁচ ভাঙা, ভেতরের মালপত্র নেই। বৃদ্ধের হাতে শুধু একটি মরিচা ধরা তালা।

এক পথচারী তাঁকে জিজ্ঞেস করল, চাচা, পুলিশে খবর দিয়েছেন?

বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, দিয়েছি।

পথচারী-কী বলেছে?

বৃদ্ধ-বলেছে তদন্ত হবে।

পথচারী-তারপর?

বৃদ্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, তারপর আমি অপেক্ষা করছি।

পথচারী-কিসের জন্য?

বৃদ্ধ বললেন, ন্যায়ের। তারপর একটু থেমে যোগ করলেন-তবে ন্যায় যদি আসতে চায়, তাকে হয়তো আগে পথ চিনতে হবে। সেই রাতে নিশীথপুরের দেয়ালে একটি বাক্য লেখা হলো- আইন আছে, কিন্তু ন্যায় কোথায়?

সকালে দেয়ালটি ধুয়ে ফেলা হলো। পরেরদিন আবার লেখা হলো- প্রহরী আছে, কিন্তু পাহারা কোথায়?

সেটিও মুছে ফেলা হলো।

তৃতীয় দিন শুধু একটি শব্দ লেখা হলো- কেন?

এবার কেউ শব্দটি মুছতে সাহস পেল না। কারণ “কেন”-এর কোন দল নেই, কোন পতাকা নেই, কোন অফিস নেই, কোন চেয়ার নেই। তবুও তার শক্তি ছিল অদ্ভুত। নিশাল বাবু এক রাতে তাঁর দপ্তরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শহরের দিকে তাকালেন। দূরে অসংখ্য আলো। কিন্তু আলো থাকা সত্ত্বেও শহরটি অন্ধকার মনে হচ্ছিল। তিনি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। কিন্তু আশ্চর্য! আয়নায় তাঁর মুখ দেখা গেল না। দেখা গেল নিশীথপুর।

একজন মা দরজার কাছে বসে আছেন, একজন বাবা হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন, একজন তরুণ ভাঙা দোকানের সামনে, একটি শিশু জানালার ফাঁক দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে, একজন বৃদ্ধ তাঁর মরিচা ধরা তালা হাতে বসে আছেন। আর হাজার হাজার মানুষ যারা চিৎকার করছে না, শুধু তাকিয়ে আছে।

নিশাল বাবু আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

পররেদিন সংসদে আবার প্রশ্নোত্তর পর্ব। এক সদস্য দাঁড়িয়ে বললেন, মাননীয় মন্ত্রী, মানুষ কেন নিরাপদ বোধ করছে না?

নিশাল বাবু মুচকি হেসে বললেন, মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।

কিন্তু অপরাধ? – তদন্ত হচ্ছে।

দখল? – আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।

চাঁদাবাজি? – কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্যাতন? – আমরা কোন ধরনের অপরাধ বরদাশত করি না।

সব প্রশ্নের উত্তর হয়ে গেল। শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার হলো না-আপনার নিজের দায়িত্বের জায়গায় যদি মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে আপনার সাফল্যের সংজ্ঞাটি কী?

নিশাল বাবু প্রশ্নটি শুনলেন এবং হাসলেন। তারপর অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করলেন। গ্যালারির বৃদ্ধ সাংবাদিক আবার লিখলেন-ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে; নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে।

তিনি লেখাটির পাশে আরেকটি বাক্য লিখলেন-কিন্তু ক্ষমতার চেয়েও বিপজ্জনক হলো ক্ষমতাবান যখন নিজের ব্যর্থতাকে আয়নায় দেখতে অস্বীকার করে।

সেদিন সংসদ থেকে বেরিয়ে নিশাল বাবুর গাড়িবহর রাজপথে ছুটল। সাইরেন বাজল, গাড়ি থামল না। রাস্তার পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে রইল। এক শিশু তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, বাবা, এত গাড়ি কোথায় যাচ্ছে?

বাবা বললেন, ক্ষমতা যাচ্ছে।

শিশু আবার জিজ্ঞেস করল, কোথায়?

বাবা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, জানি না।

শিশুটি বলল, তাহলে আমাদের দিকে আসে না কেন?

বাবা কোন উত্তর দিলেন না। কারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর বাবা-মায়ের কাছেও থাকে না।

নিশীথপুরে তখন মানুষ পাগলপ্রায়, কেউ দিশাহারা, কেউ চুপ, কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ ক্লান্ত। কেউ শুধু নিজের পরিবারটাকে নিরাপদ রাখতে চাইছে। মানুষ বুঝতে শুরু করল-রাষ্ট্র কেবল ভবন নয়, রাষ্ট্র কেবল পতাকা নয়, রাষ্ট্র কেবল সংসদ নয়। রাষ্ট্র তখনই রাষ্ট্র হয়ে ওঠে, যখন একজন সাধারণ মানুষ রাতে ঘুমানোর আগে মনে করতে পারে-আগামীকাল সকাল পর্যন্ত আমি নিরাপদ থাকব।

একদিন নিশাল বাবু আবার সংবাদ সম্মেলনে এলেন। আগের মতোই মুচকি হেসে বললেন, নিশীথপুরে সবকিছু স্বাভাবিক। ঠিক তখনই বাইরে বিদ্যুৎ চলে গেল, ঘর অন্ধকার, মাইক্রোফোন বন্ধ, ক্যামেরা বন্ধ। কয়েক সেকেন্ডের জন্য কেউ কাউকে দেখতে পেল না। তারপর অন্ধকারের মধ্যে একটি শিশুর কণ্ঠ শোনা গেল-মা, আলো কোথায়?

কেউ উত্তর দিল না। শিশুটি আবার বলল-মা, ভয় করছে। অন্ধকারে তখন নিশাল বাবুর মুচকি হাসি আর দেখা যাচ্ছিল না। হয়তো তিনি প্রথমবার বুঝেছিলেন-রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সংকট কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলার পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। তা ধরা পড়ে একটি শিশুর কণ্ঠে, একজন মায়ের চোখে, একজন বাবার নিঃশ্বাসে, একজন দোকানদারের ভাঙা তালায়, একজন নিখোঁজ মানুষের স্বজনের অপেক্ষায়, আর একটি শহরের দীর্ঘ নীরবতায়।

পরেরদিন সকালে নিশীথপুরের সব দেয়াল পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু শহরের একটি পুরোনো দেয়ালে কেউ কিছু লিখতে পারেনি। কারণ সেখানে আগেই লেখা ছিল-যেকোন স্থানের অবিচার সর্বত্র ন্যায়ের জন্য হুমকি। তার নিচে নতুন করে কেউ শুধু একটি প্রশ্ন লিখে গেল-তাহলে আমাদের শহরের অবিচার কোথায় গিয়ে শেষ হবে?

কেউ জানে না কে লিখেছিল। কেউ জানে না নিশাল বাবু সেটি দেখেছিলেন কি না। শুধু জানা যায়, সেই রাতের পর নিশীথপুরের মানুষ একটি নতুন অভ্যাস করেছিল। তারা আর শুধু দরজায় তালা দিত না। তারা নিজেদের সন্তানদের প্রশ্ন করতে শেখাত। কারণ তারা বুঝেছিল-তালা একটি ঘরকে রক্ষা করতে পারে,
প্রহরী একটি রাস্তা পাহারা দিতে পারে, আইন একটি অপরাধকে শাস্তি দিতে পারে। কিন্তু একটি সমাজকে রক্ষা করে-জবাবদিহি, ন্যায়, সত্য, আর প্রশ্ন করার সাহস।

নিশাল বাবু তখনও মন্ত্রী। সংসদ তখনও চলছিল, মাইক্রোফোন তখনও জ্বলছিল, ক্যামেরাও চলছিল। শুধু নিশীথপুর বদলে গিয়েছিল। মানুষ আর তাঁর হাসির দিকে তাকিয়ে থাকত না। তারা তাঁর কথার পরে নীরব হয়ে যেত। আর সেই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ ইতিহাসে অনেক রাজা হারিয়ে গেছে, অনেক মন্ত্রী হারিয়ে গেছে, অনেক প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন-জনগণ কি নিরাপদ? এই প্রশ্ন কোন সংসদ ভবনের দেয়াল জানে না কীভাবে বন্ধ করতে হয়। কারণ প্রশ্নটি মানুষের। আর মানুষের প্রশ্নের কোন ছায়া নেই।

ছায়া শুধু আলোকে অনুসরণ করে। কিন্তু একদিন আলোই ছায়াকে অনুসরণ করতে শুরু করলে-তখন শহর বুঝতে পারে, অন্ধকার আসলে কোথা থেকে জন্ম নিয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর