বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আহত পুলিশ পরিদর্শক  শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুরু নরমাল ডেলিভারি সেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ প্রসবসেবার সুযোগ, কমবে প্রসূতিদের ভোগান্তি জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মার্কিন জাল ডলারসহ দুই যুবক আটক। বাংলাদেশ তরুণ সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন সুজন আহাম্মেদ ভাঙা আয়নার শহর: নীরবতাকে দূর্বলতা আর অশিষ্টতাকে স্মার্টনেস ভাবা হয়। প্রবাসীদের রক্তঘামে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধি: স্বীকৃতি ও সুরক্ষার অধিকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন,বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। গ্রেটার সিলেট কমিউনিটির সম্মেলনে প্রবাসীদের দাবি: ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বিদেশি ফ্লাইট চালু ও ৬ লেনের কাজ দ্রুত সম্পন্নের আহ্বান কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতা, এলাকায় আলোচনা বকশীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার।

যাদুকাটায় বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য: ভাঙনের মুখে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ।

সহকারী বার্তা সম্পাদক- ছাদেক আহমাদ। / ১৯৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

যাদুকাটায় বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য: ভাঙনের মুখে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ।

বিশেষ প্রতিনিধি

অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল, ঝুঁকিতে লক্ষ কৃষকের একমাত্র ফসল
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে মাহরাম ও শান্তিপুর এলাকায় আগাম পানি প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে। এতে হাওর রক্ষা বাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের জন্য নদীর পাড় কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে নদীর তীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং হাওর রক্ষা বাঁধ ধ্বংসের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে পাড় কাটা অব্যাহত থাকলে ভাটি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে বন্যা কিংবা আগাম পাহাড়ি ঢলের সময় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় পাতি নেতা এবং অসাধু সিন্ডিকেটের সদস্যরা নানাভাবে জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই নীরবতা এবং প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে হাওর রক্ষা বাঁধ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের অন্তর্গত প্রায় ৫১টি হাওরের কৃষিজমি মূলত একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। আর এই ফসল রক্ষায় হাওর রক্ষা বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে লক্ষাধিক কৃষকের বছরের একমাত্র ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষকে এই অনিয়ম ও লুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা মনে করেন, হাওর ও কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় অবিলম্বে যাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাওর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষায়,
“হাওর আমাদের জীবন, আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এই হাওর ধ্বংস হলে শুধু কৃষক নয়, পুরো অঞ্চলই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাই এখনই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর