চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড়ে আগের জুয়ার ঘর ভেঙে দেওয়ার পরও নতুন করে গড়ে ওঠা জুয়ার আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে টিন-বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। অভিযানে ইপিজেড থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে।
পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিত্যক্ত ডোবার ওপর টিন ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে টাকা দিয়ে জুয়া খেলা ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে ওসমান গনি (৩২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার পিতার নাম অজ্ঞাত। প্রেস রিলিজে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তার স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-৪৩৩১ এলাকার ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পট্টি, হাটহাজারী; বর্তমানে আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় বসবাস করেন।
এর আগে গত ৩ জুন বেলা ১১টার দিকে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই জুয়ার ঘরে অভিযান চালিয়ে তা ভেঙে দেয়। ওই ঘটনায় ওসমান গনির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তবে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও নতুন জায়গায় জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ জানায়, দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড়ের সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে গহীন আমবাগানের জঙ্গলের মধ্যে ওসমান নতুন করে অস্থায়ী খোলা টংঘর নির্মাণ করে জুয়া ও মাদক সেবনের আসর বসাচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় ইপিজেড থানা পুলিশ।
এর ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) আবু বকরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় মামলা নং-০১, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জুয়া প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮ ও ২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের পর জুয়ার আস্তানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা পুলিশের তৎপরতা ঠেকাতে বিভিন্ন কৌশল নেয়। জুয়ার ঘরে যাতায়াতের পথে দুই স্থানে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং রাস্তায় কাঁটা ফেলে পুলিশের চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গম ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদকের আসর বসায় স্থানীয় যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। পাশাপাশি আশপাশে বসবাসরত সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছিল। একাধিকবার অভিযান ও গ্রেপ্তারের পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারও নতুন করে আসর বসানো হতো।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা জুয়ার ঘরটি স্থায়ীভাবে অপসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি চসিক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে আবাসিক এলাকায় জুয়া ও মাদককেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড বন্ধে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সিটি করপোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বাধীন টিমকে ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) মো. মামুনুর রশিদ, এসআই (নিঃ) মো. কামরুজ্জামান এবং মোবাইল-৫১ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্স প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ সদস্যদের সমন্বিত সহযোগিতায় উচ্ছেদ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এর আগে একই এলাকায় এসআই (নিঃ) আবু বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার ও জুয়ার সরঞ্জামসহ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাও পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ অস্থায়ী জুয়ার ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা প্রশাসন, চসিক এবং ইপিজেড থানা পুলিশের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শুধু ঘর উচ্ছেদ নয়, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে এ ধরনের আস্তানা পুনরায় গড়ে ওঠার সুযোগ কমবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আকমল আলী খালপাড়সহ আশপাশের দুর্গম এলাকাগুলোতে ইপিজেড থানা পুলিশের নিয়মিত টহল, নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে জুয়া-মাদকের বিস্তার রোধের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সুরক্ষিত হবে।