রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দৃশ্যের বিচার, নাকি সত্যের অনুসন্ধান? দেশীয় মদসহ ১২ রোহিঙ্গা আটক, প্রত্যেকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড সুর-ঝংকার একাডেমির গুণীজন সংবর্ধনা ও স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে -মঞ্জু তুরাগ থানার অভিযানে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম গ্রেফতার টেকনাফ–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালুর দাবিতে দুই সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৩৫ বিজিবির অভিযানে সীমান্ত থেকে ভারতীয় মদ উদ্ধার। বালিয়াডাঙ্গীতে মাদকবিরোধী সচেতনতায় ‘স্বপ্নময়ী কড়িয়া অর্গানাইজেশন’, গ্রামে গ্রামে ব্যানার-ফেস্টুন বকশীগঞ্জে বাস চাপায় ব‌উ-শ্বাশুড়ির মৃত্যু।। মামলাবাজি, অন্যের জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগ জসীমউদ্দীনের বিরুদ্ধে, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সিএনজিতে ইয়াবা পাচার, টেকনাফের যুবক আটক উখিয়ায়

দৃশ্যের বিচার, নাকি সত্যের অনুসন্ধান?

শাহ লাভলী রহমান। / ২৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

শাহ লাভলী রহমান: প্রবাস থেকে দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা কেবল একটি ভ্রমণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ক্লান্তি, আবেগ এবং প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা। বিশেষ করে যাঁরা ইউরোপ কিংবা যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফিরেন, তাঁদের অনেকেই সরাসরি ফ্লাইটে ১১–১২ ঘণ্টা কিংবা ট্রানজিটসহ ১৮–২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ভ্রমণ করতে হয়। একবার ভাবুন, দীর্ঘ এই যাত্রায় একজন যাত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কেমন থাকতে পারে। ঠিকমতো ঘুম নেই, খাবারের অনিয়ম, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক অবসাদ সব মিলিয়ে শরীর ও মন দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় দেশের মাটিতে পা রাখার পর একজন যাত্রীর সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে, যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু সেই প্রত্যাশার জায়গায় যদি তাঁকে দীর্ঘ অপেক্ষা, অব্যবস্থাপনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়, তখন তাঁর মানসিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে? বিমান থেকে নেমে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, পর্যাপ্ত ট্রলি না পাওয়া কিংবা ট্রলি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন, এসব অভিজ্ঞতা একজন ক্লান্ত যাত্রীর বিরক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় লাগেজ বহনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত টানাটানি কিংবা অর্থ দাবি নিয়ে অস্পষ্টতা, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন হলো-
• আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব পরিস্থিতি কেন তৈরি হবে?
• সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি আগে থেকে ফ্লাইটের সময়সূচি জানেন না?
• যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় পর্যাপ্ত ট্রলি, জনবল ও সেবাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?এই প্রশ্নগুলো কোন ব্যক্তির আচরণকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নয়; বরং একটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য।
সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বিরোধ এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনা আমাদের সামনে এমনই কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে। একটি ঘটনা ঘটলেই আমাদের সমাজে যেন অদৃশ্য একটি ঘণ্টা বেজে ওঠে। মুহূর্তেই শুরু হয় আলোচনা, সমালোচনা, নিন্দা, প্রশংসা এবং পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় এক অনানুষ্ঠানিক বিচারসভা। সেখানে সাক্ষ্য লাগে না, তদন্তের অপেক্ষা করতে হয় না, প্রমাণের পূর্ণাঙ্গতা যাচাইয়েরও প্রয়োজন পড়ে না। একটি ভিডিও, কয়েকটি বাক্য কিংবা অসম্পূর্ণ সংবাদই যথেষ্ট আমরা রায় দিয়ে বসি। কিন্তু কখনো কি থেমে নিজেদের প্রশ্ন করি, যা দেখছি, সেটিই কি পুরো ঘটনা? নাকি দৃশ্যের আড়ালে রয়ে গেছে আরও একটি অদৃশ্য অধ্যায়? প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহে বিলম্ব এবং ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, হুমকি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়। ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যেমন অনুচিত, তেমনি অভিযোগের পেছনের পরিস্থিতি অনুসন্ধান না করাও অসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়। এখানেই আমাদের মূল প্রশ্ন।
• একজন ব্যক্তি কেন উত্তেজিত হলেন?
• কী পরিস্থিতিতে তাঁর আচরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছাল?
• যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব কেন হলো?
• ট্রলির সংকট কেন তৈরি হলো?
• সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা ছিল কি না?
• যাত্রীদের অভিযোগ যথাযথভাবে শোনা হয়েছিল কি না?
• দীর্ঘ ভ্রমণের পর একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিকে সেবাব্যবস্থার পরিকল্পনায় কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়?
এই প্রশ্নগুলো তোলা মানেই কাউকে নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। বরং প্রকৃত সত্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য সব পক্ষের ভূমিকা পরীক্ষা করা। কারণ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার যেমন রয়েছে, প্রতিবাদের নামে অন্যের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করারও কোন বৈধতা নেই। একইভাবে, কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে সেটিও জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না। আমাদের বিচারবোধের মূলনীতি হওয়া উচিত-অভিযোগের বিচার হবে, অভিযোগের পেছনের কারণও অনুসন্ধান করা হবে।
দৃশ্যমান ঘটনা ও অদৃশ্য বাস্তবতা: একটি গাছের শুকনো পাতা দেখে আমরা যদি শুধু পাতাটিকেই দোষারোপ করি, অথচ শিকড়ে পানি পৌঁছাচ্ছে কি না, মাটিতে পুষ্টির অভাব রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা না করি, তাহলে গাছটির অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব নয়। সমাজের ঘটনাগুলোও অনেকটাই তেমন। আমরা প্রায়ই ঘটনার শেষ দৃশ্যটি দেখি, কিন্তু তার শুরুটা খুঁজি না। কারও ক্রোধ দেখি, ক্রোধের জন্ম দেখি না। কারও প্রতিবাদ দেখি, প্রতিবাদের পেছনের অভিযোগ শুনি না। কারও ভুল আচরণ দেখি, সেই পরিস্থিতি তৈরির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা জানতে চাই না। এভাবে আমরা দৃশ্যের বিচারক হয়ে উঠি, কিন্তু সত্যের অনুসন্ধানকারী হতে পারি না। বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কোন ব্যক্তি তিনি সাবেক সংসদ সদস্য, সামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সাধারণ নাগরিক কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা কিংবা তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু একই সঙ্গে বিমানবন্দরের সেবাব্যবস্থা, যাত্রী হয়রানি, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। এক পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করা হবে, অথচ অন্য পক্ষের সম্ভাব্য দায়িত্বহীনতা প্রশ্নের বাইরে থাকবে, এমন তদন্ত জনমনে ন্যায়বিচার সম্পর্কে সংশয় তৈরি করতে পারে।
প্রতিবাদ, নাকি বিশৃঙ্খলার অভিযোগ? প্রতিবাদ সভ্য সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। প্রতিবাদ হতে পারে যুক্তির, প্রতিবাদ হতে পারে ক্ষোভের, প্রতিবাদ হতে পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রকাশ। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা যদি হুমকি, অপমান কিংবা শারীরিক আক্রমণে রূপ নেয়, তখন তারও জবাবদিহি প্রয়োজন। তাই কাউকে কেবল প্রতিবাদী বলে নির্দোষ কিংবা উত্তেজিত আচরণের কারণে সব প্রশ্নের বাইরে রাখা যায় না। একইভাবে, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সত্য হয়ে যায় না। গ্রেপ্তার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার একটি ধাপ; অপরাধ প্রমাণের বিকল্প নয়। এখানে আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রতিও অন্ধ আনুগত্য নয়; বরং সত্য, প্রমাণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি আনুগত্য।
আমাদের সামাজিক ব্যাধি: আগে রায়, পরে প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ অনেকটা এমন এক আদালতে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষী এবং দণ্ডদাতা সবাই একই ব্যক্তি। কোন ঘটনা ঘটলেই আমরা প্রথমে জানতে চাই,
• কে দোষী? অথচ প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, কী ঘটেছিল? এরপর জানতে হবে,
• কেন ঘটেছিল?
• কোথায় ঘটেছিল?
• কীভাবে পরিস্থিতির অবনতি হলো?
• কার কী দায়িত্ব ছিল?
• কোন তথ্য এখনো অজানা?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার পরই আমাদের মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ, একটি ঘটনার পেছনে কখনো ব্যক্তিগত অসংযম থাকে, কখনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কখনো যোগাযোগের ঘাটতি, কখনো দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। আবার কখনো একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। সবকিছুকে একটি মাত্র দৃশ্যের মধ্যে বন্দি করলে সত্যের বহুমাত্রিকতা হারিয়ে যায়।
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই সামাজিক পরিপক্বতার প্রথম শর্ত: আমরা যদি প্রতিটি ঘটনায় কেবল ব্যক্তিকে খুঁজি, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায়িত্ব থেকে সহজেই আড়াল পেতে পারে। আবার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই ব্যক্তির সব আচরণকে বৈধ ধরে নিলে আইন ও শৃঙ্খলার ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। সুতরাং আমাদের প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। বিমানবন্দরের এই ঘটনায় যেমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, তেমনি যাত্রীদের ভোগান্তির কারণও প্রকাশ করা জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করা উচিত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও অভিযোগ, প্রত্যক্ষ তথ্য এবং প্রমাণিত সত্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, ন্যায়বিচার কখনো এক চোখ দিয়ে দেখে না। তার দুটি চোখই খোলা থাকে। একটি দেখে অপরাধের সম্ভাবনা, অন্যটি দেখে ঘটনার প্রেক্ষাপট।
হইচই নয়, অনুসন্ধান হোক আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া: একটি সমাজ কতটা সভ্য, তা শুধু তার আইন কিংবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং সংকটের মুহূর্তে সে কতটা ধৈর্য নিয়ে সত্য অনুসন্ধান করতে পারে, তার মধ্যেও সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়। আমরা যদি প্রতিটি ঘটনার পরপরই কাউকে নায়ক কিংবা খলনায়ক বানিয়ে ফেলি, তাহলে সত্যের জন্য অপেক্ষা করার সামাজিক ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলব। তাই আসুন, আমাদের প্রশ্ন করার অভ্যাস বদলাই। কেউ চিৎকার করলে শুধু চিৎকারের শব্দ শুনব না, কেন সেই কণ্ঠ উচ্চ হলো তা জানার চেষ্টা করব। কেউ প্রতিবাদ করলে শুধু তার ভাষা নয়, অভিযোগের বিষয়বস্তুও পরীক্ষা করব। কেউ গ্রেপ্তার হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংবাদ নয়, অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্পর্কেও প্রশ্ন করব। কারণ, প্রশ্নহীন সমাজে অন্যায় যেমন নিরাপদ আশ্রয় পায়, তেমনি অপরিণত বিচারবোধও নিরপরাধকে অভিযুক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। আমাদের লক্ষ্য কাউকে রক্ষা করা নয়, কাউকে অকারণে দোষী সাব্যস্ত করাও নয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্যকে রক্ষা করা। মনে রাখা দরকার-
• ঘটনা দেখা সহজ, ঘটনার অর্থ বোঝা কঠিন।
• অভিযোগ করা সহজ, প্রমাণ খুঁজে বের করা কঠিন।
• রায় দেওয়া সহজ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
একটি পরিণত সমাজের পরিচয় হলো, সে সহজ কাজের মোহ ত্যাগ করে কঠিন সত্যের অনুসন্ধানে এগিয়ে যায়। সুতরাং, কোন ঘটনার বিচার করার আগে আসুন আমরা প্রথমে প্রশ্ন করি-কেন, কোথায় এবং কীভাবে? তারপর আলোচনা করি, কী ঘটেছে। হয়তো দৃষ্টিভঙ্গির এই সামান্য পরিবর্তনই আমাদের সামাজিক বিচারবোধকে আরও মানবিক, যুক্তিনিষ্ঠ ও ন্যায়ভিত্তিক করে তুলতে পারে।

একজন কবি ও লেখক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর