বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নানিয়ারচরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আর্থিক সহায়তা নিয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বাসনা চাকমার পাশে দাঁড়িয়েছে পাটলাই, মাহারাম ও শান্তিপুর নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। রূপগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা কহিনুর বহিষ্কার শিক্ষার গুণগত মানে তুলনামূলক এগিয়ে দক্ষিণ চান্দখানা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মানে তুলনামূলক এগিয়ে বেতগাড়া দক্ষিণপাড়া একরামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাহিরপুরে মানহানীকর বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত আলীগ্রামকে বুড়িগঞ্জে রাখার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ এলাকাবাসী চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটাল ব্যথামুক্ত জীবনের বিশ্বস্ত ঠিকানা!! এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের সঙ্গে ঢাকাস্থ বাঁশখালী সমিতির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পাটলাই, মাহারাম ও শান্তিপুর নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাহরাম ও পাটলাই নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের আনন্দ বাজারে পরিবেশ, নদী ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সাবেক ইউপি সদস্য উম্মর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজ উদ্দিন, বিল্লাল মিয়া, মোশারফ হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সদস্য রাজনা আক্তার সীমা, এসআই শফিক, জয়নাল আবেদীন, জুলহাস সর্দারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর এলাকার মাহরাম নদী এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পুরান খালাস গ্রামের পেছনে ও লেদারবন্দ গ্রামের সামনের পাটলাই নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। উত্তোলিত বালু ডাম্প করে বিভিন্ন স্থানে মজুত রেখে পরে বিক্রি করা হবে বলে দাবি করেন।
তাদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, কৃষিজমি ও নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি ভাটি অঞ্চলের মাটিয়ান হাওরসহ অন্তত ২৩টি হাওরের বোরো ফসলও ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসন অতীতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার পুড়িয়ে দিলেও বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখনও বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার ঘনফুট বালু মজুত রয়েছে স্পষ্ট প্রমাণ।
তারা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শান্তিপুর ও মাহরাম নদী থেকে ছোট নৌকায় বালু উত্তোলন করে প্রথমে ডাম্পের বাজার, কৃষ্ণতলা, ভোরাঘাট, শ্রীপুর, কামারকান্দি, কাউকান্দি, লেদারবন্দ, পুরান খালাস ও বিন্দারবনসহ বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে বড় বাল্কহেডে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। রাতের আঁধারে নিয়মিত এভাবে বালু পরিবহন হলেও সংশ্লিষ্ট ডাম্পিং ও লোডিং পয়েন্টে কার্যকর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তাদের ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ সোচ্চার হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুকের ভুয়া আইডি ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ইয়াকুব হোসেন বলেন, লেদারবন্দ ও বিন্দারবন্দ গ্রামের সামনে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। আমরা প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে দুই দিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই বালুখেকো চক্র ফেসবুকের ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অপর ওয়ার্ড সদস্য আবু মিয়া বলেন, পাটলাই নদীতে ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানের পর একটি চক্র  আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে। অবিলম্বে এই ক্রের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, দুই দিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক সময় অভিযানের খবর পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা নৌকা ও যন্ত্রপাতি ফেলে পালিয়ে যায়। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর