সোহেল সরকার
প্রতিবছর ১৮ অক্টোবর আসে এক বেদনাবিধুর স্মৃতি এবং গভীর ভালোবাসার প্লাবন নিয়ে। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতির প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও নির্মম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের এক অবুঝ শিকার ১০ বছরের নিষ্পাপ শিশু রাসেল। যার হাসিতে ছিল এক চিলতে আলো, আর চোখে ছিল এক বুক স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে শেখ রাসেলের জন্ম। তাঁর নামকরণের পেছনে ছিল জাতির পিতার পছন্দের নোবেল বিজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা। রাসেল বড় হচ্ছিলেন এক অনন্য আবহে—যেখানে ঘরের প্রতিটি কোণে ছিল বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের প্রেরণা।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের নির্মম বুলেটে থমকে যায় এই ছোট্ট প্রাণটি। জীবনের শেষ মুহূর্তে ঘাতকদের পৈশাচিকতার সামনে দাঁড়িয়ে নিষ্পাপ রাসেলের আকুতি ছিল মায়ের কাছে যাওয়ার। কিন্তু ঘাতকের দল সেই কোমল মিনতি শোনেনি; অবুঝ রাসেলের বুকে বুলেট চালিয়ে তারা স্তব্ধ করে দিয়েছিল এক উদীয়মান সম্ভাবনাকে।
শেখ রাসেলের এই অকালপ্রয়াণ কেবল একজন শিশুর মৃত্যু নয়, এটি মানবতা ও মৌলিক অধিকার হরণের এক চিরন্তন ক্ষত। আজ শেখ রাসেল দিবস কেবলই এক স্মরণের দিন নয়; বরং এটি আমাদের সমাজের প্রতিটি শিশুর অধিকার রক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক দৃঢ় অঙ্গীকারের দিন।
শেখ রাসেল আজ শারীরিকভবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তিনি হারিয়ে যাননি। তিনি বেঁচে আছেন কোটি শিশুর হাসিতে, আমাদের জাতীয় চেতনায় এবং গভীর ভালোবাসায়। শেখ রাসেল চিরদিন আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে বেঁচে থাকবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: সোহেল সরকার
বাংলা নিউজ মিডিয়া