সংযোগ সড়কের অভাবে ঝিনাইগাতীর দিঘীরপাড়ের ৫০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ৫০টি পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি রোগী ও প্রসূতি নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে মূল সড়কে নিতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া এবং দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময়ও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্বজনদের।
এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে দিঘীরপাড়ের যাতায়াতের রাস্তার অবস্থা এতটাই বেহাল যে সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদায় পরিণত হয়। মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের প্রায় এক হাঁটু কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়েছে। কোনো যানবাহন চলাচলের উপায় না থাকায় কাদা-পানি পেরিয়েই মরদেহ নিয়ে দাফনকাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি সংযোগ সড়কের প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যুগের পর যুগ ধরে তারা এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে আর কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
এলাকাবাসী জানান, দিঘীরপাড় গ্রামের বসতবাড়ির দক্ষিণ দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে একটি পাকা সড়ক রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে মহারশী নদীর তীরবর্তী একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এসব রাস্তার যেকোনো একটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে একটি সড়ক নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতে পারে।
তাদের দাবি, একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে শুধু মানুষের স্বাভাবিক চলাচলই সহজ হবে না; জরুরি রোগী ও প্রসূতি নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, মরদেহ পরিবহন ও দাফন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনও সহজ হবে।
এলাকাবাসী শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুরের জেলা প্রশাসক এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দ্রুত সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দিঘীরপাড়বাসীর একটাই দাবি—দক্ষিণ কিংবা উত্তর, যেকোনো একটি দিক দিয়ে হলেও দ্রুত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান করা হোক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবিত মানুষের চলাচল যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তেমনি মৃত্যুর পরও মরদেহ নিয়ে এক হাঁটু কাদা পেরিয়ে দাফনকাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে—যা তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও যোগাযোগ সংকটের নির্মম চিত্র।