মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দোয়ারাবাজারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপের আহবান প্রান্তিক কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিলেন ব্রাক ডিমলায় স্বপ্নের রামডাংগা সামাজিক সংগঠন এর নলকূপ বিতরন। সিলেট রেঞ্জের সেরা ওসি নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ী মাধ্যমিক শিক্ষক সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আনিস-উজ-জামান শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালী ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান 

৮ বছরের সংগ্রামের পর চিকিৎসাবিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন: Fruits for street children এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে শেরপুরের কৃতি সন্তান আজহার 

প্রতিবেদকের নাম / ৪১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

 

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ৫ বছরের একাডেমিক কোর্স সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে ৮ বছর। কিন্তু এই যাত্রা কখনোই মসৃণ ছিল না। রাজনৈতিক নির্যাতন, বারবার কারাবাস, অসুস্থতা ও দীর্ঘ হাসপাতাল জীবন—সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন শেরপুরের তরুণ আজহার।

 

শৈশব থেকেই তার জীবন ছিল সংগ্রামময়। ২০০৩-০৪ সালে শেরপুরের ইতিহাসে প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তার বাবাকে কারাবন্দি করা হয়। তখন বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার বয়সে তাকে জেলগেটে বাবাকে দেখতে যেতে হয়েছে মা ও কাকাদের সঙ্গে। এরপর ২০০৫, ২০০৮, ২০১২, ২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালসহ বারবার রাজনৈতিক হয়রানি ও কারাবাসের শিকার হয়েছে তার পরিবার।

 

২০১৬ সালের সেই স্মরণীয় ঘটনা

ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তির দিনই পুলিশ তার বাবাকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন কাকাসহ তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডিবি ওসি মাহফুজ আহমেদ তার কপালে রিভলভার ঠেকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, তিনি ইসলামী সমাজ করেন এবং ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাসী। সেদিনের সেই ঘটনার পর শুরু হয় তার ১০০ দিনের কারাবাস সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায়।

 

স্বাস্থ্য সংকট ও এক বছরের স্টাডি গ্যাপ

২০২১ সালে দ্বিতীয় পেশাগত পরীক্ষার আগে গুরুতর অসুস্থতায় দীর্ঘ হাসপাতাল জীবন ও এক বছরের স্টাডি গ্যাপ পড়ে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।

 

 

তিনি ছোট থেকেই অনেক মেধাবী ছাত্র ছিলেন, ২০১৫ সালে চেঙ্গুরিয়া আনছার আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ -৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে BHMS ভর্তি পরীক্ষার প্রথম হয়ে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এ ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে থাকা সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এ ইন্টার্নী করছেন।এবং তার পাশাপাশি Nexbang ventures নামের ব্যবসা পরিচালনা করেন।

 

 

এই পুরো সংগ্রামের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তার মা-বাবা, কাকা, ভাই-বোন, চাচাতো ভাইবোন এবং কয়েকজন শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বড়ভাই। তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অসীম কৃষ্ণ চৌধুরী।

 

এবং তিনি সুদ,জুয়া, মাদক,মোবাইল আসক্তি ও যৌতুক নির্মূল কেন্দ্র’ এর আহ্বায়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর