শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
যে পাহাড় ছিল জীবিকার আশ্রয়, আজ সেখানে নিরাপত্তার হাহাকার জামালপুরের ৩৫বিজিবির অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক-১ খুলনায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সিম ভাড়া দিয়ে বিপাকে লিটন, তিন দিনে লেনদেন ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা তাহিরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন। সুনামগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত। তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের নির্বাচন: সহ-প্রচার সম্পাদক পদে লড়ছেন এরশাদ মিয়া। বিএনপি নেতা তানোরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের মৃত্যু, বিভিন্ন মহলে শোক বকশীগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ৫ কিলোমিটার মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত! তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের নির্বাচনে অর্থ সম্পাদক পদে লড়ছেন ফারুক আহমেদ। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সফল হোক: শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন যুবদল নেতা জসিম শেখ ও সাইফুল ইসলাম(বি.এ) মাদক ও চুরি বিরোধী সুনামগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নবাসির আয়োজনে প্রতিরোধমূলক সভা অনুষ্ঠিত। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের এমপি নুরুল আমিন’র ধারে কাছে এবং পিছে পিছে যে সব নেতা নামধারীরা থাকেন তাদের উদ্দেশ্য শুধু সুবিধা ভোগ করা নয় তো তাড়াশে জসিম উদ্দিন-জহুরুল ইসলামসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ভূমি প্রতিকার আইনে মামলা, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি টেকনাফে সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে সেনাসদস্য আহত, উদ্ধার ৫৪ জন সরকারি তিতুমীর কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপে সিনিয়র রোভারমেট (SRM) পদে নতুন ৫ সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাযা ও দাফনে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত। হোয়াইক্যংয়ে দুই বাড়ি থেকে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পলাতক দুই ব্যক্তি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের টহলে আটক ৪, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা সীতাকুণ্ডে ছাত্রী নিহতের পর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ, প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক   বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সময় পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654

যে পাহাড় ছিল জীবিকার আশ্রয়, আজ সেখানে নিরাপত্তার হাহাকার

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, / ৫৯ বার দেখা হয়েছে
নিউজটি প্রকাশ হয়েছে শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ -নিজস্ব প্রতিবেদক:

একটি পাহাড়, যার বুক চিরে একসময় কৃষক ফলাতেন ফসল, যার পাদদেশে সবুজ শাকসবজির সমারোহে ভরে উঠত মাঠ, যে পাহাড়ের ঢালে গবাদিপশু চরে বেড়াত—সেই পাহাড় আজ যেন আতঙ্কের অন্য নাম। যে পাহাড় ছিল মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন, সেই পাহাড়েই আজ নিরাপত্তার অভাবে মানুষ নিজের জীবিকা, জমি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এ কি সেই চিরচেনা টেকনাফের পাহাড়? নাকি সময়ের নিষ্ঠুরতায় হারিয়ে যাওয়া এক জনপদের দীর্ঘশ্বাস?কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার পাহাড়ঘেরা জনপদ একসময় ছিল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মানুষের জীবন-জীবিকার এক অনন্য আশ্রয়স্থল। পূর্বদিকে পাহাড়, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণে বিস্তৃত সমুদ্র আর পাশ দিয়ে বয়ে চলা নাফ নদী—প্রকৃতি যেন দুই হাত ভরে সাজিয়েছিল এই জনপদকে। পাহাড়, নদী ও সমুদ্রকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল এখানকার মানুষের জীবন-সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও জীবিকার ঐতিহ্য।কিন্তু আজ সেই পাহাড়ের দিকে তাকালে অনেকের চোখে আনন্দের বদলে ভেসে ওঠে ভয়, উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা। পাহাড়ের গহিনে অপহরণ, মানবপাচার ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের তৎপরতার অভিযোগ স্থানীয় মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। যে পাহাড়ে একসময় জীবিকার সন্ধানে যেতেন কৃষক ও রাখাল, সেই পাহাড়ে যেতে আজ নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয় তাঁদের।যে পাহাড়ে ছিল জীবনের গল্প!একটু অতীতের দিকে ফিরে তাকাই। টেকনাফের পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন কতটা প্রকৃতিনির্ভর ছিল, তা এই অঞ্চলের প্রবীণদের স্মৃতিতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাহাড়ের ঢালে জুমচাষ, পাদদেশে মৌসুমি শাকসবজির আবাদ, গরু-মহিষ-ছাগল পালন এবং নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন অসংখ্য মানুষ।কৃষকের ঘরে উঠত বছরের খাদ্য। গোয়ালভরা গবাদিপশু ছিল অনেক পরিবারের সম্পদ। পাহাড়ের সবুজ ঘাসে গরু-মহিষ চরে বেড়াত, কৃষকের মাঠে ফলত ফসল, আর সন্ধ্যায় ঘরে ফিরতেন পরিশ্রমী মানুষগুলো। জীবনে অভাব ছিল, সংগ্রাম ছিল; কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে ছিল নিবিড় সম্পর্ক।পাহাড় তখন শুধু মাটি-পাথরের স্তূপ ছিল না। পাহাড় ছিল কৃষকের স্বপ্ন, রাখালের জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যাওয়ার অবলম্বন।আজ সেই পাহাড়ের গহিনে যেতে যদি একজন কৃষককে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হয়, একজন রাখালকে গবাদিপশু চরাতে গিয়ে অপহরণের ভয় করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা আর কী হতে পারে?গহিন পাহাড়ে গুলির শব্দ, ঝরে গেল এক সৈনিকের প্রাণগত ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মোচনী নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন গহিন পাহাড়ে অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআরবি ও পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে পরিচালিত অভিযানের একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গুলিবিনিময় হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হন এক সেনাসদস্য। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।একজন সেনাসদস্যের মৃত্যু মানে একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া, প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষমাণ কিছু মানুষের জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি হওয়া। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সৈনিকের এমন মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করে।একজন মা হয়তো তাঁর সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। কোনো পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন আশার আলো, কোনো স্বজনের কাছে ছিলেন নির্ভরতার নাম। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর প্রাণ হারানোর ঘটনায় সেই পরিবারটির বেদনা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।একজন সৈনিকের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? কেন পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের? কেন সাধারণ মানুষকে অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে?সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে প্রায় ৫৭ জন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এই উদ্ধার যেমন স্বজনদের কাছে স্বস্তির খবর, তেমনি এটি আমাদের সামনে তুলে ধরে মানবপাচার ও অপহরণের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।অপহরণ, মুক্তিপণ ও স্বজন হারানোর ভয় স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফের কিছু দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপরাধী চক্রের সদস্যরা আস্তানা গড়ে তুলে অপহরণ ও মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত। বিদেশে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা, আবার কাউকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাহাড়ে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।একবার ভাবুন, একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটি সকালে বাড়ি থেকে বের হলেন। পরিবারের সদস্যরা হয়তো তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা নামার পরও তিনি ফিরলেন না। এরপর খবর এল, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তির জন্য দাবি করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।সেই পরিবারের অবস্থা কী হয়?কোনো মা সন্তানের জন্য কান্না করেন, কোনো স্ত্রী স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন, কোনো সন্তান বাবার মুখ দেখার আশায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। পরিবারের সামর্থ্য না থাকলে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করাও হয়ে ওঠে কঠিন। ঋণ, দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় ভেঙে পড়ে একটি পরিবার।আর যদি সেই মানুষটি আর জীবিত ফিরে না আসেন, তাহলে তাঁর পরিবারের কাছে পুরো পৃথিবীটাই যেন অন্ধকার হয়ে যায়।এই বেদনাগুলো শুধু একটি পরিবারের নয়; এগুলো একটি জনপদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি। অপহরণ ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষারও প্রশ্ন।২০১৭ সালের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা থেকে যদি বলাহয়! ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর উখিয়া ও টেকনাফের জনজীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের প্রভাব স্থানীয় পরিবেশ, বনাঞ্চল, জনসংখ্যা, বাজারব্যবস্থা ও জীবিকার ওপরও পড়েছে।স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনেকে মনে করেন, তাঁদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার প্রশ্নগুলো আগের তুলনায় আরও জটিল হয়েছে। পাহাড় ও বনাঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ, কর্মসংস্থানের চাপ এবং অপরাধের আশঙ্কা তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।তবে অপরাধের দায় কোনো জনগোষ্ঠীর সব মানুষের ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় ও দায় নির্ধারণ করতে হবে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। নিরপরাধ রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পরিবারগুলোর মানবিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার অধিকার নিশ্চিত হবে, একই সঙ্গে আশ্রিত জনগোষ্ঠীর নিরপরাধ মানুষও ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা পাবে।পাহাড়ে যেতে ভয় পায় মানুষ!টেকনাফের পাহাড় শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকার অংশ। অথচ সেই পাহাড়ে যেতে যদি মানুষকে অপহরণের ভয় করতে হয়, তাহলে জীবিকার পথও সংকুচিত হয়ে আসে।একজন কৃষক যখন নিজের জমিতে যেতে ভয় পান, তখন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতি। একজন রাখাল যখন গবাদিপশু চরাতে পারেন না, তখন তাঁর আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। একজন শ্রমজীবী মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতার কারণে কাজের সুযোগ হারান, তখন তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।যে পাহাড় একসময় মানুষের ঘরে খাদ্য জোগাত, সেই পাহাড় যদি আজ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তাহলে এর দায় শুধু অপরাধীদের নয়; নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোরও নিজেদের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।অপরাধ দমনে অভিযান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়, যদি অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া না যায়, অপহরণ ও মানবপাচারের দালালদের শনাক্ত করা না হয় এবং অপরাধের শিকার মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না যায়।ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি?আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন টেকনাফ রেখে যেতে চাই?আমরা কি এমন একটি জনপদ রেখে যেতে চাই, যেখানে কৃষক নিজের জমিতে যেতে ভয় পাবেন? যেখানে পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটি ঘর থেকে বের হলে স্বজনেরা দুশ্চিন্তায় থাকবেন? যেখানে পাহাড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে অপহরণ ও সশস্ত্র অপরাধের আতঙ্ক?নাকি আমরা এমন একটি টেকনাফ চাই, যেখানে পাহাড় হবে জীবিকার নিরাপদ আশ্রয়, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উৎস, আর মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন?এই প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রশাসনের কাছে নেই; উত্তর খুঁজতে হবে আমাদের সবাইকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগাযোগ বৃদ্ধি, অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধী চক্রের অর্থায়ন ও সহযোগী নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষক, জেলে, রাখাল ও সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বিঘ্ন রাখতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।যে পাহাড়ে আবারও ফিরুক জীবনের গান, টেকনাফের পাহাড়কে আমরা অপরাধের পরিচয়ে চিনতে চাই না। আমরা চাই, এই পাহাড় আবারও পরিচিত হোক সবুজ প্রকৃতি, কৃষকের ফসল, রাখালের গবাদিপশু এবং মানুষের নিরাপদ জীবিকার জন্য।আমরা চাই না, আর কোনো মা তাঁর সন্তানকে হারিয়ে বুক চাপড়ে কাঁদুন। আর কোনো সন্তানকে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হোক। আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মুক্তির জন্য সর্বস্ব বিক্রি করে দিতে হোক।আমরা চাই না, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর কোনো পরিবারকে একজন প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় বেদনা বহন করতে হোক।একজন সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ, অপহৃত মানুষের দুর্ভোগ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাহীনতা আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরে—টেকনাফের পাহাড়ে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।পাহাড়ের বুক থেকে অপরাধের অন্ধকার দূর হোক। কৃষকের মুখে ফিরুক হাসি, রাখালের মনে ফিরুক নির্ভয়তা, পরিবারগুলো ফিরে পাক স্বস্তি। পাহাড়, নদী ও সমুদ্রকে ঘিরে আবারও গড়ে উঠুক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্ন।কারণ, একটি পাহাড় শুধু মাটি-পাথরের সমষ্টি নয়; একটি পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, জীবিকা, স্মৃতি, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ।যে পাহাড় একসময় মানুষের মুখে হাসি ফোটাত, সেই পাহাড় আর কোনো মায়ের কান্নার কারণ হোক—এ আমরা চাই না। যে পাহাড় ছিল জীবিকার আশ্রয়, সেই পাহাড় আবারও হয়ে উঠুক মানুষের নিরাপদ বেঁচে থাকার ঠিকানা

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ